কোরবানী ঈদে পশুর হাটগুলোকে টার্গেট করে জাল নোট তৈরি করছে বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র। এজন্য গরু ব্যবসায়ী-ক্রেতাসহ যারা এসময়ে টাকা লেনদেন করবেন তাদেরকে টাকা দেখে নেবার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এমন পরামর্শ ও তথ্য দেন।
এরআগে বুধবার দিনগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি গ্রুপের সমন্বয়কারী হোতাসহ আট জনকে জালনোট তৈরি ও বাজারে ছাড়ার অপরাধে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এসময় তাদের কাছ থেকে অর্ধ কোটি জাল বাংলাদেশী টাকা, টাকা তৈরির কাগজ, ফ্রেম, নিরাপত্তা সুতা, ল্যাপটপ ও প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দল নেতা আবুল খায়ের (৪৬), আজিজুল হক (২৯), সোহেল রানা (২৯), শাহ আলম (২৭), শহিদুল ইসলাম (২৯), ইয়াসিন আরাফাত (১৯), মো. সোহাগ (২৩), মাসুদ (২২)।
এবিষয়ে তিনি বলেন, ঈদ, পশুর হাট ও পূজাকে টার্গেট করে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ টাকার জাল নোটের চাহিদা ছিল। মূলত তিন হাত ঘুরে টাকাগুলো বাজারে পৌছে যেত। বেশ কয়েকটি গ্রুপ এই কাজে জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত সাতটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসাবোর তিলপা পাড়া কালভার্ট মোড় আব্দুর রবের মোটর সাইকেল গ্যারেজের সামনে অভিযান চালায়।

তখন সোহাগ ও শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যায়। এসময় সোহাগের কাছ থেকে ৯৮টি এবং শাহ আলমের কাছ থেকে ৯৬টি জাল এক হাজার টাকার বাংলাদেশী নোট উদ্ধার করা হয়।


পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো ঝিলপাড় ৫৫/১০/৪ নম্বর আবুল খায়েরের ভাগা বাসায় ৪র্থ তলা একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

সেখান থেকে দলের মূল হোতা আবুল খায়েরসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় আবুল খায়েরের প্যান্টের পকেট থেকে ২শ' টি এক হাজার টাকার বাংলাদেশী নোট উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, অন্য একটি রুম থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশী নোট এবং ২৫ লাখ টাকার অর্ধ ছাপা নোট, বিপুল পরিমাণ টাকা তৈরির কাগজ, ১২টি ফ্রেম, রং, নিরাপত্তা সুতা, ৫টি ল্যাপটপ, ৩টি প্রিন্টার, ডলার, সৌদি রিয়াল ও ভারতীয় রুপির ডাইসসহ টাকা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, আবুল খায়ের তিনটি গ্রুপের সমন্বয় করতেন। সে প্রায় ৬-৭ বছর ধরে এ কাজ করে আসছিল। এর আগে খায়ের দুইবার গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে সে আবার এই কাজে লিপ্ত হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আবুল খায়ের স্বীকার করেছে, জাল টাকা তৈরির সিন্ডিকেট তিন স্তরে বিভক্ত। টাকা তৈরির কাগজ সরবরাহ গ্রুপ, আবুল খায়ের, সোহেল রানা, ইয়াসিন সেই কাগজ কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে টাকা ছাপায় এবং দেশব্যাপি বিস্তৃত সরবরাহী গ্রুপের মাধ্যমে সরবরাহ করেন। এ গ্রুপে আছে আজিজুল হক, শহিদুল ইসলাম ও অন্যরা।
মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রায় ৩০/৩৫ জনের নাম এসেছে। মুলত ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে বাজারে টাকার চাহিদা বাড়ে। তখন এ চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সে সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিমের উপ-কমিশনার নাজমুল আলম, উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান এবং অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পশ্চিম) সাইফুল ইসলাম।

জেইউ/ এআর