গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার মামলায় গ্রেফতার হওয়া হাসনাত রেজাউল করিম ২ বছর কারাগারে থাকার পর অবশেষে কারামুক্ত হলেন।
আজ (০৯ আগস্ট) বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ছাড়া পান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক। এর আগে বুধবার (০৮ আগস্ট) ঢাকার আদালত গুলশান হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পুলিশের সুপারিশে হাসনাত করিমকে অব্যাহতির আদেশ দেন।
গাজীপুরের কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, গত রাতে আদালতের কাগজপত্র কারা অফিসে পৌঁছেছিল। আজ (০৯ আগস্ট) কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, আদালতের কাগজপত্র বুধবার রাতে কারাগারে পৌঁছায়। পরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসনাত করিমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি কারা ফটকের সামনের রাস্তায় অপেক্ষমাণ একটি কালো জিপ গাড়িতে চড়ে স্বজনদের সঙ্গে দ্রুত কারা এলাকা ত্যাগ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা।
এসময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। গত ২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর।
ওইদিন হাসনাত করিমের নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির একটি সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে এ হামলা করা হয়েছে। তাদের এ পরিকল্পনার কোথাও হাসনাত করিমের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যারা জীবিত গ্রেফতার হয়েছে তাদের কথায়ও হাসনাত করিমের নাম আসেনি। সুতরাং হাসনাত করিমের দেয়া ব্যাখ্যার চাইতেও অন্যান্য যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তাদের জবানবন্দির ওপর ডিপেন্ট করেছি এবং চার্জশিটে আদালতকে ব্যাখ্যা করেছি।
আসামিদের মধ্যে ৬ জন কারাগারে এবং ২ জন পলাতক রয়েছেন। কারাগারে থাকা ৬ আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।
এছাড়া বিভিন্ন অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দানের সুপারিশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। যার মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে ও ৫ জন হলি আর্টিজানেই নিহত হন।
গুলশানের হলি আর্টিজানে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’নিহত ৫ জন হলেন- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’অভিযানে নিহত ৮ জন হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
এমবি





