বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮১ ডলার ৮৯ সেন্টে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৭ ডলার ৯০ সেন্টে নেমে আসে।

এএনজেডের বিশ্লেষক সোনি কুমারীর মতে, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দামে আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।

সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর নতুন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানো বা দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখার পথে হাঁটতে পারে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা মূল্যবান ধাতুটির দামে চাপ সৃষ্টি করছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও উৎপাদক মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব তথ্যের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের অধিকাংশের ধারণা, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেড আপাতত সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে পারে। তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরে সুদের হার আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা ৪ থেকে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের লেনদেনকারীরা ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন।

আগামী ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, পিসিইর তথ্য মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়ে ফেডের উদ্বেগ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকেরা কঠোর অবস্থান নিলে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।

বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৫ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে আসে।

একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৬ ডলার ২২ সেন্টে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের পর এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম।

অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫২ ডলারে নেমেছে। এর আগে ধাতুটির দাম ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান এবং ফেডের আসন্ন সিদ্ধান্তের দিকে। এসব বিষয়ই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এস