উদ্যোগটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকছে জামানত ছাড়াই ঋণ পাওয়ার সুযোগ। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ এবং ব্যবসার পারফরম্যান্স ভালো হলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। ফলে ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের পাশাপাশি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেও অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকারদের এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, কিন্তু পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে উদ্যোগ নিতে পারছেন না, তাদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কম সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কিংবা এনজিও ঋণের তুলনায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে।
শুধু ঋণ দিয়ে দায় শেষ করতে চায় না বাংলাদেশ ব্যাংক। উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় উৎসাহ দিতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ব্যবসার ফলাফলকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে এবং ব্যবসার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হলে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মাসরুর আরেফিন জানান, এ অনুদান ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্যোক্তার ভালো ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাই পরবর্তী সহায়তা পাওয়ার অন্যতম ভিত্তি হবে।
উপজেলা থেকেই খোঁজা হবে উদ্যোক্তা
উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করা হবে। এতে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। ব্যবসার সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দক্ষতা এবং প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে।
প্রস্তাবিত তহবিল থেকে শুধু নির্দিষ্ট কোনো খাতের ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবেন না। উৎপাদন ও বাণিজ্য—দুই ধরনের উদ্যোগই এর আওতায় আসতে পারে। সম্ভাব্য খাতগুলোর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকা তরুণদেরও ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ঋণকে শুধু আর্থিক সহায়তা হিসেবে না দেখে ভালো ব্যবসা গড়ে তোলার পরবর্তী ধাপে অনুদানের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার একটি নতুন মডেল তৈরি হতে পারে।
এমএম