শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, বিষয়টি সচিবালয়ে রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।

রোববার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াসোজা গুনাসেকেরা এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় আমরা ওষুধ, কাগজ, সিমেন্ট রফতানি করতে পারি। কিন্তু সেগুলোতে উচ্চ শুল্ক থাকায় করতে পারছি না। শুল্ক ফ্রি হলে এসব রফতানি করে আমাদের দ্বিপাক্ষিক ব্যবসার ভলিউম বাড়ানো যাবে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হলে আমরা কলম্ব পোর্ট ব্যবহার করতে পারবো। এতে করে তিনদিন আমাদের বাঁচবে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা আরও বাড়বে।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ইয়াসোজা গুনাসেকারা বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার চমৎকার আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাহাজের সংযোগ ঘটলে বাণিজ্য অনেক বাড়বে। আমাদের অনেক বিনিয়োগ হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে জাহাজ, বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং সেক্টরে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে শ্রীলঙ্কা। আশা করছি ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা আরও প্রসারিত হবে।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি আসবে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি। তারা আর ভুল করবে না। তারা নতুন নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে এটা ঠিক না। কারণ তাদের অধীনেই বিএনপিকে নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন দক্ষ মানুষ। তিনি বিএনপির আমলেই ফরিদপুর এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলেন। আর জেলা প্রশাসক কারা হয়? সরকারের পছন্দের লোকই জেলা প্রশাসক হয়। এখন কেন তারা তাকে বিতর্কিত করছে। আমি নতুন সিইসির পক্ষে বলতে চাই না কারণ তাইলে মনে হবে তিনি আমাদের লোক। আমি তাকে ডিফেন্ড করছি। কিন্তু যেটা সত্য সেটা তো বলতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, নতুন সিইসি ৭৩ ব্যাচের একজন দক্ষ কর্মকর্তা। ওই ব্যাচকে নাকি বলা হয় তোফায়েল ব্যাচ। আমি বলতে চাই বঙ্গবন্ধুর সময় তারা নিয়োগ পেয়েছে। তারাও পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে। ওই সময় নিয়োগ পেলেই কী সবাই যার যার লোক হয়ে যায়। ওই ব্যাচের সোলাইমান চৌধুরী বিএনপির আমলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হয়েছেন। তাহলে তিনিও তো বঙ্গবন্ধুর সময় নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে কেন বিএনপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বানালেন। তারপর কাইয়ূম চৌধুরীকে পুলিশ প্রধান করেছিল বিএনপি। তিনিও তো সেই সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এসব বলা উচিত না। তারা সরকারি চাকরি করেন। কে কোন সময়ে নিয়োগ পেল সেটা বড় কথা নয়। তারা সরকারি চাকরি করে সেটাই বড় কথা।

এমএনজে