সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩১ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে আসে। আর ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিন ডলার সূচক বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। সাধারণত ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কেনার খরচ বেড়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক তথ্যও স্বর্ণের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমেছে। পাশাপাশি আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পে-রোলের হিসাবও বড় পরিসরে সংশোধন করা হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্য অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়েছে। এতে স্বর্ণের দামে কিছুটা সমর্থন তৈরি হয়েছে।
তবে বাজারে এখনো ধারণা রয়েছে, অক্টোবরে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে ফেড আবারও সুদ বাড়ানোর পথে যেতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নেমে এসেছে মাত্র ১৮ শতাংশে। তবে ডিসেম্বরে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ বলে দেখাচ্ছে বাজারের হিসাব।
স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও। রোববার ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্বর্ণের দামেও।
বর্তমানে তেলের দাম, বন্ডের সুদ এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নীতির প্রত্যাশা—এই তিনটি বিষয়ই স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে মূল্যবান ধাতুটির বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাড়তি তেল সরবরাহ এবং জি-৭ দেশগুলোর মজুত থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগের কারণে অপরিশোধিত তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
স্বর্ণের বিপরীতে সোমবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর কয়েকটির দাম বেড়েছে।
রুপার দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৯৪ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দামও দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০৬ দশমিক ১৮ ডলার।
তবে প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
এস











