২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা অভ্যন্তরীন ব্যাংক ব্যবস্থা হতে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে ডিসিসিআই।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ করার দাবি করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সীমা ৩ লাখ টাকা হওয়া উচিৎ। এফডিআর এর উপর ব্যাংকের সুদ আয় কর্তণ চুড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনা করার দাবী করেছে ডিসিসিআই। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিক্রিয়া ঢাকা চেম্বার এসব মন্তব্য করেছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের অনগ্রসর এলাকাগুলোতে কর অবকাশ সুবিধা ৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছরের প্রস্তাব করায় ডিসিসিআই সরকারকে সাধুবাদ ধন্যবাদ জানিয়েছে। এছাড়াও ডিসিসিআই প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও দূর্ঘটনায় সরকারী তহবিলে দানকৃত অর্থকে সিএসআর এর অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করার প্রস্তাবকেও অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডিসিসিআই বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আর যা বলেছে-
রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পোশাক শিল্প খাতের রপ্তানির উপর অগ্রীম আয়কর ০.৮০ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০.৩ শতাংশ এবং অন্যান্য সকল রপ্তানির ক্ষেত্রে এ হার ০.৮ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০.৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রস্তাবনাটিকে ঢাকা চেম্বার অভিনন্দন জানাচ্ছে। পেনশন ও সঞ্চয়পত্র এবং ওয়েজ আর্নারদের বন্ডে বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদ আয়কর মুক্ত রাখা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানীর আয়কর হার ৩৭.৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণকে ইতিবাচক বলে ডিসিসিআই মনে করে। সেই সাথে অন্য সকল কর্পোরেট করের হার হ্রাসের দাবি রাখছে ডিসিসিআই।
বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আকার ধরা হয়েছে ৮০,৩১৫ কোটি টাকা, তবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি‘র আকার ছিল ৬০,০০০ কোটি টাকা। সরকারকে এডিপি’র সফল বাস্তবায়নের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন ঘোষণার মধ্যে পদ্মা সেতু, চট্রগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মান, প্রধান মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীতকরন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মান এবং এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন সংক্রান্ত ঘোষণা বেসরকারীখাত কে উৎসাহিত করবে বলে ঢাকা চেম্বার মনে করে। পিপিপি প্রকল্পসমূহ আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ খাতের ভূমিকা আরো দৃশ্যমান রাখতে সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ট্যাক্স হলিডে সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবকে ডিসিসিআই স্বাগত জানাচ্ছে।
সার্বজনীন স্ব-নির্ধারনী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ণ অডিট না করার শর্ত এবং সর্বশেষ নিরুপিত আয়ের উপর প্রস্তাবিত ২০% বৃদ্ধির পরিবর্তে ১০% নির্ধারন করা হলে ব্যবসায়ী মহল সুফল পাবে এবং এতে করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক আরোও দৃঢ় হবে।
মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত ২৫০ কোটি টাকার তহবিল দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও ডিসিসিআই মনে করে।
এই বাজেটে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ী ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার উপর প্রভাব পড়তে পারে।
রাজস্ব আদায়কে জাতীয় আয়ের ১৩.৫% থেকে আগামী ৫ বছরে ১৭ শতাংশে নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, তা অর্জনে করের আওতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। ডিসিসিআই মনে করে, এর ফলে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭.৩%। ডিসিসিআই মনে করে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেট ঘোষনায় শিল্পায়নের উপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের সহায়তা সুবিধা সম্প্রসারণের উপর জোর দিয়েছেন, যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে ডিসিসিআই মনে করে।
[b]ঢাকা, ৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমার আশঙ্কা ডিসিসিআই’র
২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা অভ্যন্তরীন ব্যাংক ব্যবস্থা হতে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে ডিসিসিআই।





