চট্টগ্রামে চালের সবচেয়ে বড় মোকাম চাক্তাই আড়তে অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে সরকারি কাজে বাধা ও অতিরিক্ত মুনাফায় চাল বিক্রির অপরাধে আটক দুজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে অভিযানে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের বাধা দেন ব্যবসায়ী নেতাসহ সংশ্লিষ্টরা।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—হাজী বদিউল আলম সন্সের ব্যবস্থাপক দিদারুল আলম (৪৫) ও কর্মচারী জাহেদুল ইসলাম শাওন (২৪)। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় দিদারুলের তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং শাওনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী। এসময় নগর পুলিশের কর্মকর্তা ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোরাদ আলী সমকালকে বলেন, 'চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তদারকি করতেই আমরা চাক্তাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে যাই। কিন্তু প্রথমেই একটি চালের আড়তে ঢুকতে গেলে ব্যবসায়ীরা আমাদের বাধা দেন। চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের উসকানিতেই আমাদের ওপর বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'তবে ব্যবসায়ীদের বাধার মধ্যেও হাজী বদিউল আলম সন্সের আড়তে অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে কেনা দামের কয়েকগুণ বেশি দামে চাল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।
যে কারণে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দিদারুল আলমকে আটক করা হয়। এ ছাড়া অভিযান পরিচালনার সময় ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জাহেদুল ইসলাম শাওন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর বাধা প্রয়োগ করার অপরাধে তাকেও আটক করা হয়।'
চাল নিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করছেন বলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ অভিযানে থাকা ক্যাব প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, 'অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করার উদ্দেশ্য থাকলেও ব্যবসায়ীদের বাধার কারণে তা হয়নি। তবে অভিযানে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়ীরা বাধা দিলেও অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ এস
















