কোটা বাতিলের ঘোষণা এ মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ না করা হলে আগামী মাস থেকে আবারও আন্দোলনে নামবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।    

আজ(বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করে পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর এই কথা জানান।  

নুরুল হক নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা যদি এই মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ না করা হয় তাহলে আগামী মাস থেকে আমরা আবারও আন্দোলনে নামবো।  

সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত ‘টার্গেট সরকার পতন, পিস্তলের গুলি চালিয়ে ছাত্র মৃত্যুর গুজব রটানো’শিরোনামে খবর প্রকাশেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, “জনকণ্ঠের ২০ এপ্রিল অনলাইন ভার্সন ও ২১ এপ্রিল প্রিন্ট ভার্সনে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রকাশিত খবরটি আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে দৈনিক জনকেণ্ঠর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আগামী ৩০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বলে জানানো হয়।  

এছাড়া, অজ্ঞাত মামলাকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে নূর বলেন,“সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অপরাধীদের নামে মামলা করা হোক। আমরা চাই না অজ্ঞাত মামলার নামে কেউ হয়রানির শিকার হোক।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয় আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে।

এর আগে কয়েকদিনের ধারাবাহিক কোটা বিরোধী আন্দোলনের পর ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে বারবার আন্দোলন হতে পারে, দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে, তাই যেন আর এ ধরনের দুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কোটা পদ্ধতিই বাতিল।

এমবি