জ্ঞান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিশ্বশান্তি ও  ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।

সোমবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দু’দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, ‘সমগ্র মুসলমান সম্প্রদায় একটি পরিবার হওয়া উচিত। যেখানে সকল কিছুর বিনিময় হতে পারে একটি পরিবারের মানুষগুলোর মতোই। পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ  থেকে সরে আসতে প্রথমে সকল বিভেদ দুর করতে হবে। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা একে অপরের সাথে জ্ঞান বিনিময় করতে পারব।  ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারব। একে অপরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্বাবোধ তৈরি করতে পারব।’

সোমবার সকাল  সাড়ে ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) “বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতি: প্রেক্ষিত রিসালা-ই নূর ” শিরোনামে দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রফেসর আবদুল মান্নান। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ও তুরস্কের ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজনে করে। সম্মেলনে আটটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের ইস্তাম্বুল ফাউন্ডেশনের মধ্যে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর সভাপতিত্বে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্ট্যাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন আজহারী ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন জাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তুরস্কের উস্কুদার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আলপার্সলান আছিজেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহা-পরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আফম আকবার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জর্ডানের প্রতিনিধি ড. মামুন ফারিজ মাহমুদ জ্যাররার, ইরাকের প্রতিনিধি  রিসালায়ে নূর’র অনুবাদক  ইহসান কাসিম সালেহী, সৌদি আরবের কিং ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রফেসর ড. হারুন প্রিমি, আরব আমিরাতের শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক শাইখ আব্দুস সালাম সাঈদ করীম, তুরস্কের প্রতিনিধি সাঈদ উজ্যাদালী, মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক শাহিদুল ইসলাম ফারুকী ও ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি স্কলার  জুবাইর হামিদ।

সম্মেলনে পৃথক পৃথক ৮টি সেসনে ৭১টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এরমধ্যে ইংরেজি প্রবন্ধ থাকবে ৩৮টি এবং আরবি প্রবন্ধ থাকবে ৩৩টি। এছাড়াও বিদেশী প্রবন্ধকার ও বিশেষ্ণজ্ঞদের প্রবন্ধ ১০টি এবং দেশীয় প্রবন্ধকারদের প্রবন্ধ থাকবে ৬১টি। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে।

সভাপতির বক্তৃতায় ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘বাংলাদেশ ধর্মীয় শান্তি, ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে।  আমরা নিজের ধর্মে বিশ্বস করবো কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করে দেখবো, তা ঠিক নয়। ধর্মীয় গোঁড়ামি গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিশ্বশান্তি ও সমতা নিশ্চিত করণে তুর্কী লেখক বদীউজ্জামান সাঈদ নুরসীর অবদান নিয়ে দু’দিব্যাপি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারত, তুরস্ক, জর্ডান, সৌদিআরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশসহ মোট ৮টি দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন।

নাহিদ/এসএম