ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে দোকানিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে আধাঘন্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এসময় বেশ কয়েকটি দোকান ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানায়, বিকালে জহুরুল হক হলের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র নূর ও তার কয়েকজন বন্ধু নীলক্ষেতে বই কিনতে যান। এ সময় ৬০ টাকা নিয়ে দোকানদারদের সাথে দরকষাকষি হয়। একপর্যায়ে দোকানদাররা তাদেরকে মার্কেটের ভেতরে একটি কক্ষে নিয়ে বেদম মারধোর করে।
ক্যাম্পাসে এখবর পৌঁছালে কয়েক'শ শিক্ষার্থী রড, লাঠি নিয়ে মার্কেটের দিকে যেতে থাকে। এ সময় জহুরুল হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফ রহমান হল, মুহসীন হলসহ বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়।
প্রথমে শিক্ষার্থীরা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেয়। অপরদিকে ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ২ বার ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকিয়ে দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় উভয় পক্ষ হতেই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে।
একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা ফুটপাতের বইয়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অন্যান্য দোকান ভাংচুর করে।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের রাবার বুলেটে অনেক আহত আহত হয়। এ সময় অন্যান্য ক্রেতারা অতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনে আনেন। পুলিশ এসময় কয়েক রাউ- টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এসংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- নূর ইসলাম(জহুরুল হক হল) সোহান (ইংরেজি, প্রথম বর্ষ, এফ রহমান হল),শাহাদৎ হোসেন (বাংলা-প্রথম বর্ষ, জহুরুল হক হল), আব্দুল আলিম (স্বাস্থ্য অর্থনীতি, প্রথম বর্ষ), বাবুল আক্তার (ক্যান্টিন ম্যানেজার, এফ রহমান হল), সাব্বির হোসেন (সমাজবিজ্ঞান-প্রথম বর্ষ, জহুরুল হক হল), আবু সায়েম (বাংলা-প্রথম বর্ষ, জহুরুল হক হল), আশরাফুল (নাট্যকলা-প্রথম বর্ষ, এফ রহমান হল) এবং শিমুল (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-দ্বিতীয় বর্ষ, এফ রহমান হল) প্রমুখ। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানাগেছে।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া আগুনে আগুনে ফুটপাতের অনেকগুলো দোকান ভস্মিভূত হয়। সর্বশান্ত হয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে বিলাপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, যে দোকানের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, সেটার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আমাদের তো কোনো দোষ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এ এম আমজাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্রেতাদের ব্যবসাসুলভ মানসিকতা থাকা দরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে না ঘটে এ জন্য হকার্স মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থলে পাঁচ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
[b]ঢাকা,১২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর[/b]