দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ঠেকাতে নির্বাচনের আগে সারা দেশে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে সাড়ে ৫ কোটি টাকা চেয়েছে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে চিঠি দেয়া হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪২৮টি। এসব বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ৩ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২৫টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮৭টি, কলেজ ১২টি ও মাদ্রাসা ২৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মেরামতের জন্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৪২০ টাকা চাওয়া হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এসব স্কুলগুলো ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহƒত হওয়ার কথা ছিল। ভোট ঠেকাতে দৃষ্কৃতকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। এরপর এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়।
অগ্নিসংযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানের চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামত করতে না পারায় শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। কোথাও কোথাও গাছতলায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
এর আগে মাঠপর্যায়ের তালিকা অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৭ জানুয়ারি ৪৫৭টি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তাতে ৬ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ৪৭৪ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের সংখ্যা কাটছাঁট করে করা হয় ৪২৮টি।
২ ফেব্রুরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক নোটে বলা হয়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৪২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই করা হয়েছে এবং ৪২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের বিষয়ে মহাপরিচালকের অনুমোদন পাওয়া গেছে।
এমতাবস্থায় পিইডিপি-৩-এর আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এওপি কোড ০১০৬-এর অধীনে সংস্থাকৃত অর্থ থেকে তালিকা অনুযায়ী ৪২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ৩ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হল। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠির শর্তাদি পালন সাপেক্ষে অর্থ ব্যয় করার বিষয়টি বরাদ্দপত্রে উলে­খ করার জন্যও অনুরোধ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে। তাতে ক্ষতির সমীক্ষা সম্পাদনের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া অবিলম্বে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ অলিউল্লাহ বলেন, আমরা তালিকা করে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এটা এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। টাকা পেলে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শ্যামলকান্তি ঘোষ বলেন, বিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে তারা দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থার কথা ভাবছেন।
[b]ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]