হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দিলেন চালক আসাদ। পরে দেখাগেল একটি চাকার ছয়টি বোল্টের পাঁচটিই খুলে গেছে। মাত্র একটি বোল্টেই চলছিল গাড়ি। এভাবেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেলেন।
বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া শহরের বিসিক শিল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এক সাথে পাঁচটি বোল্ট কিভাবে খুলে গেল? না কি কেউ আগে থেকেই খুলে রাখেছিল? এমন অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সবমহলে। ইতোমধ্যে এ লোমহর্ষক ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াতে অনুষ্ঠিত লালন মেলায় ‘লালন সাঁই: মরমি মৃত্তিকার ফসল’ শীর্ষক সেমিনারে যোগদান করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় ক্যাম্পাস থেকে রওনা হন ইবি ভিসি ড. রাশিদ আসকারী। পথিমধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
গাড়িচালক আসাদের ভাষ্য, “আজ আমার গাড়িতে কোথাও যাওয়ার কথা ছিল না ভিসি স্যারের। তাই আমি ঘুমেই ছিলাম। হঠাৎ ৮ টা ৩৮ মিনিটে আমাকে ফোন করে বলা হলো, দ্রুত বড় গাড়ি নিয়ে আস, স্যার কুষ্টিয়া যাবে। দেরি না করে ১০ মিনিটে আমি ভিসি স্যারের বাংলো থেকে গাড়িটি বের করে স্যারকে নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করি। শুরু থেকেই কেমন যেন হালকা একটা শব্দ আমার কানে আসে। কিন্তু স্যারের অনুষ্ঠানের সময় পার হয়ে যাচ্ছে এবং স্যারকে বার বার অনুষ্ঠান থেকে ফোন করছে তাই মনযোগটি গন্তব্যের দিকেই ছিল। শব্দটি বেশি মার্ক করতে পারি নাই।
বিসিক শিল্প এলাকার ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর সামনে পৌছলে হঠাৎ বাম চাকার দিক থেকে একটি উচ্চ আওয়াজ শুনতে পাই এবং গাড়িও হালকা ঝাঁকি দিচ্ছিল। সাথে সাথে গাড়ি থামিয়ে দেখি, সর্বনাশ! পাঁচটি বোল্টই নেই। বিষয়টি স্যারকে জানাই।”
আসাদ আরো বলেন, ‘এই গাড়িগুলোর বোল্ট আঘাতে ভেঙ্গে যাবে কিন্তু কখনই ঝাঁকিতে খুলবে না এবং যে কোন রেঞ্জ দিয়ে এই বোল্ট খোলা যাবে না’
ভিসির ব্যাক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমি গাড়ির সামেন বসে ছিলাম। আমি লক্ষ্য করছিলাম বেশ কিছুক্ষণ ধরেই গাড়ি হালকা ঝাঁকুনি দিচ্ছে। হঠাৎ একটা শব্দ হলে চালক গাড়ি থামিয়ে দেয়। নেমে দেখি এই অবস্থা। পরে ক্যাম্পাস থেকে স্যারের ছোট গাড়িটি এনে স্যারকে নিয়ে আমি সেমিনারে চলে যাই।”
জানা যায়, ভিসির বাংলোতেই কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয় তার ব্যবহৃত দুইটি গাড়ি। গত ৫ নভেম্বর বড় গাড়ি করে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পর আজকেই গাড়িটি প্রথম ব্যবহার করেন ভিসি। এর মধ্যে গাড়িটি বাংলো থেকে কোথাও নেওয়া হয় নি বলে জানান গাড়ি চালক।
এদিকে এক সাথে পাঁচটি বোল্ট খুলে যাওয়ার বিয়টি খুব রহস্যজনক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। অনেকেই বলছে কেউ একজন বোল্টগুলো আগেথেকেই ঢিল করে রেখেছিল। নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা বাংলোর ভেতরে থাকা গাড়ির বোল্ট কে খুলেছে? এমনিতে খুলে গেল পাঁচটি বোল্ট? না কি নিরাপত্তা দাতাই চক্রান্তের সাথে জড়িত? তা হলে কে সেই ব্যাক্তি? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই। অনেকেই বলছে ভিসির আস্থা ভাজনের মধ্যেই কেউ একজন এই চক্রান্তের সাথে জাড়িত থাকতে পারে। অন্যথায় এটা সম্ভব নয়।
ঘটনা খতিয়ে দেখতে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকী দুজন সদস্য হলো, ইবির পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন এবং কুষ্টিয়া বিআরটিএ-এর মটর জান পরিদর্শক ।
ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমরা প্রাণে বেঁচে গেছি। এটা চক্রান্তও হতে পারে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত রহস্য বেরিয়ে আসবে।’
শিক্ষক সমিতির বিবৃতি: এদিকে এ ঘটনাকে চক্রান্ত উল্লেখ করে সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছে ইবি শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে জড়িতদের শাস্তি এবং ভিসির নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করে পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষক সংগঠন ইবি জিয়া পরিষদ, গ্রীণ ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরাম।
হিমেল/জারিফ





