শিক্ষা সফরের সড়ক দুর্ঘটনায় রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা সৈয়দা ফাহিমা বেগমের (৪৮) বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটি জোড়া লাগানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ছয় সদস্যের চিকিৎসক দল একনাগাড়ে পৌনে ১২টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করেন। তবে জোড়া লাগানো হাতটি আর কাজ করবে কী না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় পাথালিয়া পেট্রলপাম্পের সামনে শিক্ষা সফরে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাস ধাক্কা দেয়ায় ঢাকা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা সৈয়দা ফাহিমা বেগমের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই বাসে থাকা আরও কমপক্ষে ১৩ জন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

শিক্ষিকা ফাহিমা বেগমের স্বামী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ শফিকুল ইসলাম। তারা শান্তিনগর থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায়।

ফাহিমা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে এনে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটি জোড়া লাগান।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক হোসাইন ইমাম জানান, শিক্ষিকার হাতটি কয়েকটি জায়গায় ভেঙে গেছে। চিকিৎসকেরা হাতটি সংযুক্ত করেছেন ঠিকই, তবে হাতটি সচল হবে কি না, তা নির্ভর করছে বাধাহীন রক্ত সঞ্চালনের ওপর। সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।

এছাড়া তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। ইন্সটিটিউটের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে অর্থোপেডিক, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সার্জনসহ কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকের সমন্বয়ে ফাহিমা বেগমের হাতে অস্ত্রোপচার করেন।

দুর্ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন- শিক্ষার্থী আবু নাফিস চৌধুরী (১৯), এহসান (১৫), আবু হাসান (২০), সাইমন (১৬), তৌহিদ আহমেদ (১৮), সৈয়দ মাহিদ (২৩), অন্তর (১৮), মাহমুদ (১৭), শাহরিয়ার (১৮), আরাফাত (১৮), কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম (২৫) বেলাল (৪০) ও তরিকুল (৩০)। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অসিত মল্লিক বলেন, শিক্ষিকা ফাহিমা বেগমের বাম হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি করা হয় এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ভর্তি হওয়া ১০ জনকেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়া হয়।

গোপালগঞ্জ সদরের ওসি মনিরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুর মোহাম্মদ সিকদার ও স্থানীয়রা জানান, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার ১২৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী চারটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাসে করে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া পাথালিয়া পেট্রলপাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহনকারী একটি বাস। এতে মিনিবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এ ঘটনায় শিক্ষিকা সৈয়দা ফাহিমা বেগমের বাম হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও আরও অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা আহত হন।

এমআর