সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ‘কালো বিড়াল। শুটিংয়ের সময় বাস্তব জীবনেও রচিত হয়েছে হারানোর গল্প। পর্দার বাইরের সে শোক মিলেমিশে একাকার হয়েছিল চরিত্রের সঙ্গে। ঢাকা মেইলকে নিদ্রা বলেন, ‘‘কালো বিড়াল’ নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। প্রজেক্টটা ছোটভাবে শুরু হয়েছিল। আস্তে আস্তে বড় কিছুতে রূপান্তরিত হয়েছে। আমার ক্যারেক্টারের নাম দেবী। এই চরিত্রে কাজ করার সময় আমার জীবনে বাজে সময় কেটেছে। অনেক কিছু ঘটেছে। আমি ২৫ থেকে ২৬-এ পা দিয়েছি। বাবার সঙ্গে শেষ জন্মদিন কাটিয়েছি। বাবাকে হারিয়েছি।’’
অভিনেত্রী বলেন, ‘নিদ্রার জীবনের সঙ্গে দেবীর অনেক মিল আছে। সে কারণে অভিনয়ের সময় কাঁদতে কৃত্রিমতার সাহায্য নিতে হয়নি। নওগাঁ রেল স্টেশনে ২০০-২৫০ মানুষের মধ্যে অভিনয় করে তালি পেয়েছি। তাদের মধ্যে হাউমাউ করে কেঁদেছি। ওই সিনে আমি নিদ্রা-দেবী সবকিছু হয়ে কেঁদেছি। কখন কাট বলেছে জানি-ই না।’
ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প রয়েছে নিদ্রার। শুটিংয়ের সময় মন পড়ে থাকত বাবার কাছে। হারানোর দুশ্চিন্তা তাড়িয়ে বেড়াত। এরকম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গেল বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বাবার বেঁচে থাকার কথা ছিল। সেখানে নভেম্বর চলছিল। আমার কাছে দিনগুলো বোনাস মনে হচ্ছিল। শঙ্কায় ছিলাম সিনেমাটি শেষ হওয়া পর্যন্ত বাবাকে পাব কিনা। হুট করে কল এলে চলে যেতে হবে কি না। বাসায় বাবার সামনে কাঁদতে পারতাম না। শুটিংয়ে আমি কেঁদেছি। মনে হচ্ছিল ওই কান্নাটা আমার নায়কের জন্য কিংবা আমার বাবার জন্য কিংবা স্পেশাল কোনো মানুষের জন্য ছিল।’
‘কালো বিড়াল’ নিয়ে আধুনিক বাংলা হোটেলের অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘সিনেমাটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। খুব ভালো হবে আশা করি। আমার মনে হয় মানুষ পছন্দ করবে এবং নিজের সঙ্গে রিলেট করতে পারবে।’
ফাখরুল আরেফীন খান নির্মিত ‘নীল জোছনা’য় পশ্চিমবঙ্গের পাওলি দামের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন নিদ্রা। ছবিটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম বলে মনে করছেন। তার কথায়, ‘‘নীল জোছনা’ আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। কেননা পাওলি দামের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছি। শুধু পাওলি না, ইন্তেখাব দিনার, এফএস নাইম, পার্থ বড়ুয়াসহ বাংলাদেশের বড় বড় সব আর্টিস্ট ছিলেন। তাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা দারুণ ব্যাপার। ভিন্ন ধরনের গল্প। গল্পের মেইন রিজন আমি।’’
পরিচালকে মুগ্ধ নিদ্রা বলেন, ‘আরেফীন ভাই শিক্ষিত মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করতে খুব ভালো লাগে। সিনেমাটি টাইম ট্রাভেল নিয়ে। সায়েন্স ফিকশন ধরণের। শিগগিরই গান আসবে। মিষ্টি একটা ভালোবাসার গান। ওটাই সিনেমার ব্রিদিং স্পেস। আমি মনে করি ভারত-বাংলাদেশ— দুই জায়গার মানুষই পছন্দ করবে। আশা করছি পূজায় আসবে সিনেমাটি।’
নির্মাতা হিসেবে পথচলা শুরু করছেন নিদ্রা। এরইমধ্যে কাজে হাত দিয়েছেন। বললেন, ‘শুধু অভিনয় করব না। পরিচালনা নিয়েও ভাবছি। চলতি বছর একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য সিনেমা বানাচ্ছি। স্ক্রিপ্টের কাজ চলছে। আশা করছি দুই-তিন মাসের মধ্যে শুটে নামব। সামনে বছর ফিল্ম মেকিং নিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে দেশের বাইরে যাব। তারপরে ডিরেক্টর অ্যান্ড আর্টিস্ট হয়ে বাংলাদেশে ফিরব।’
এমএম