রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই ঘটনায় আহত কৌতুক অভিনেতা রনি ও পুলিশ কনস্টেবল মো. জিল্লুর রহমানের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মিটিং শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রুমানা রশীদ সম্পা বলেন, হাসপাতালের আন্তরিকতা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। চিকিৎসকদের আন্তরিকতা এবং এখন পর্যন্ত যে চিকিৎসা চলছে তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। উনারা (মেডিকেল বোর্ড) যা ভালো মনে করবেন আমরা সেটাই করবো। এসময় তিনি স্বামীর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

অভিনেতা রনি ও কনস্টেবল জিল্লুর রহমান বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা এশিয়ার মধ্যে উন্নত একটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে এসেছি। এখানে অতীতে আমরা যে চিকিৎসা দেখেছি তা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ আমরা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করবো এবং তাদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা দেবো।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আহতদের চিকিৎসায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে তাদের চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুরে জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ও নাগরিক সম্মেলনে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন। দগ্ধ অন্যরা হলেন, কনস্টেলব জিল্লুর রহমান, মোশাররফ হোসেন, ইমরান হোসেন ও রুবেল হোসেন। ওইদিনই অভিনেতা রনি ও কনস্টেবল জিল্লুর রহমানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বার্ন ইউনিটের পরিচালক মো. আবুল কালামকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিসপেরেটরি মেডিসিন ও হেমাটোলজি বিভাগের দুজন চিকিৎসককে বোর্ডে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে রোববার দুপুরে সভায় বসে মেডিকেল বোর্ড।

অভিনেতা রনি ও কনস্টেবল জিল্লুর বর্তমানে বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।

দুপুরে বোর্ড সভা শেষে ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, অভিনেতা আবু হেনা রনির অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তার শরীর ১৫ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়েছে। তবে এখন কিছুটা ভালো তিনি। জিল্লুর রহমানকেও শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।

এদিকে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে শনিবার জিএমপির ডিসি (অপরাধ-উত্তর) আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জিএমপির এডিসি (উত্তর) রেজনোয়ান আহমেদ, এসি (প্রসিকিউশন) ফাহিম আশজাদ ও মেট্রো সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

এমআই