শনিবার (১৪ জানুয়ারি) তাঁর অভিনীত —জেকে ১৯৭১’ সিনেমাটির বাংলাদেশে প্রিমিয়ার হয়েছে।
জেকে ১৯৭১ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ফাখরুল আরেফীন খান। উৎসবে অংশগ্রহণ, দীর্ঘ ক্যারিয়ারসহ নানা বিষয়ে —বিনোদন’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার সিনেমাটি দর্শকদের সঙ্গে একসাথে দেখলেন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, তার অনুভূতির কথা জানালেন?
এই গল্পে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শরণার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের বাচ্চারা যখন না খেতে পেরে মরছিল, সেই অবস্থা দেখে ফরাসি এই ভদ্রলোক ২০ টন ওষুধ দিয়ে বাংলাদেশের শিশুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তাই ছবিটি বাংলাদেশের দর্শকদের সঙ্গে প্রথমবার দেখার অনুভূতি অন্য রকম।
সিনেমায় তাকে পাকিস্তানি পাইলট হিসেবে দেখা গেছে। তাই বাংলাদেশের দর্শকেরা তার চরিত্রটি কীভাবে নেবেন, এটা কি কখনো মনে হয়েছিল?
কে কী বলবে, এটা কখনো মনে হয়নি। আমাকে একটি কাজ দেওয়া হয়েছিল, আমি করেছি। বিচার আপনাদের দেশের দর্শকেরা করবেন। আমি নিজের কাজ কীভাবে বিচার করব।
ঢাকায় অনেকবার এসেছেন এই অভিনেতা। কলকাতা আর ঢাকার মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকাতে বাঙালি বেশি। বাংলার চর্চা, সংস্কৃতিটাও বেশি। ঢাকা শহর বাঙালিত্বকে ধারণ করে।
আমাদের কলকাতায় অবাঙালি বেশি। ভারতের সব ভাষার লোক আছে সেখানে। সেখানে নানা সংস্কৃতির মিশ্রণ হয়ে গেছে। তবে সেখানেও বাঙালিয়ানাও আছে।
কলকাতা মানে তো শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় —মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং, শিলং, শিলিগুড়ি —আরও অনেক জায়গায় বাঙালিয়ানা এখনো আছে।
সব্যসাচী বলেন, —আমার কাছে পুরো পৃথিবী থেকে অনেক সিনেমার প্রস্তাব আসছে। সবাইকে না বলে দিয়েছি। আপাতত কোনো সিনেমাতেই নাম লেখাচ্ছি না। আমি সিনেমা থেকে বিদায় নিচ্ছি। এখন অবসরের সময়। আমি নিজের মতো করে বাকি সময় কাটাতে চাই।
গুণী এই অভিনেতা আরও বলেন, —এখন আমি সবাইকে না বলে দিচ্ছি। আমি আর কাজ করব না। আমার সময় শেষ। আমি এখন অবসরে। আমি আলাদা হয়ে গেছি। এতদিন অন্যের জন্য কাজ করেছি। এখন শুধুই নিজের জন্য কাজ করব।’
অবসরের সময়টা কি করবেন, সেটাও জানালেন সব্যসাচী, —এই সময়ে পছন্দের খাবার খাব, ঘুমাব, বই পড়ব, টেলিভিশন, ওটিটি দেখব, খেলা দেখব —আপাতত এই পরিকল্পনা।
প্রসঙ্গত, সব্যসাচী চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের ছোটপর্দা এবং বড়পর্দার জগতে এক অতি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর পশ্চিম ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯২ হতে আজ অব্দি সুনামের সাথে অভিনয় করে চলছেন।
জোছন দস্তিদারের সোনেক্সের তেরো পার্বন সিরিয়াল থেকেই তিনি পশ্চিমবাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। 'রুদ্রসেনের ডায়েরি' টেলিসিরিয়ালে প্রথম গোয়েন্দা চরিত্রের অভিনয় করেন। পরে বাঙালী গোয়েন্দা চরিত্রে সাবলীল হয়ে ওঠেন তিনি।
সব্যসাচীর সব থেকে উল্লেখযোগ্য চিত্রায়ন সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা। সন্দীপ রায়ের বাক্স রহস্য টেলিফিল্ম এবং ফেলুদার উপর টেলিফিল্ম সিরিজে অভিনয় করার পর তিনি ফেলুদার ভূমিকায় বোম্বাইয়ের বোম্বেটে সিনেমায় অভিনয় করেন।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অসাধারণ ফেলুদা চিত্রায়নের পরেও তাকে বাঙলি দর্শক ফেলুদা হিসাবে যথেষ্ট সমাদরের সাথে গ্রহণ করেছে। সব্যসাচী বলিউডের কিছু হিন্দী সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দিল সে, খাকি, পরিণীতা, তিন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
সব্যসাচী চক্রবর্তী বাবা জগদীশ চন্দ্র চক্রবর্তী এবং মা মনিকা চক্রবর্তী ছোটবেলা হতে তাকে আদর করে "বেনু" বলে ডাকেন। তাই আজও সিনেমার জগতে তাকে এই নামেই সম্বোধন করা হয়।
১৯৭৫ সালে দিল্লির এন্ড্রু কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন তিনি। দিল্লির বিখ্যাত হংস রাজ কলেজ থেকে তিনি বিএসসি ডিগ্রি নেন।
১৯৭৮ সালে দিল্লিতে এএমআই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সব্যসাচী। অভিনয় ছাড়াও প্রকৃতি- পরিবেশের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। তিনি একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার।
১৯৮৬ সালে মিঠু চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন তিনি। বাংলা টিভি জগতে একজন জনপ্রিয় মুখ মিঠু। তাদের দুই ছেলে গৌরব ও অর্জুন। যারা আগামী দিনের মেধাবী অভিনেতা।
এন





