সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল টাম্পা এলাকায় দেখা গিয়েছিল। পরে তাদের নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়।
এই ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
হিশামের পরিবারের দাবি, তার অস্বাভাবিক ও সহিংস আচরণ নিয়ে তারা আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন। তার ছোট ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, হিশাম দ্রুত রেগে যেতেন এবং অন্যদের সঙ্গে বসবাস করা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
তিনি আরও বলেন, হিশামের আচরণ এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে তাকে একা থাকা উচিত ছিল। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় একাধিকবার পুলিশকেও জানানো হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শুক্রবার জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অভিযান চালানোর সময় মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়, যা এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, টাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের আশপাশ থেকে এসব আলামত পাওয়া গেছে।
ঘটনার দিন সকালে হিশাম আচমকা পরিবারের বাসায় গেলে তার অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরাই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে হিশামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। অতীতে তার বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগও ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তী আবেদনটি খারিজ হয়।
একটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হিশাম তার ভাইকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিলেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিলেন। এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, যেখানে তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময়ও তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। পুলিশ তাকে ঘিরে ধরলে তিনি কেবল একটি তোয়ালে পরা অবস্থায় আত্মসমর্পণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমরা ভুক্তভোগীদের পরিবারের পাশে আছি এবং সত্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছি।”
প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ সমাজের জন্য হুমকি হতে পারেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে চান না।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এনএইচ