নতুন শিশুদের রক্ত প্রবাহ থেকে এইচআইভি ভাইরাস দূর করা যায় কিন্তু হ্রাসকরণ চিকিৎসা থেমে গেলে পুনরায় আবির্ভূত হয়।
তবে, শরীরে লক্ষণ দেখার সাথে সাথে দ্রুত চিকিৎসা এইচআইভি প্রতিরোধে সহায়তা করে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। তারা বলছেন, নিরাময় পাওয়ার পূর্বে এর কিছু নির্দিষ্ট পথ রয়েছে।
১৯৮০ সালে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করে এইচআইভি। যেহেতু চিকিৎসা বিজ্ঞান দীর্ঘ পথ আসার পরও এর সংক্রমণ মৃত্যুর কারণ।
যাইহোক, রক্তপ্রবাহ থেকে এই ভাইরাস হ্রাস করা সম্ভব যদি তা অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে না পড়ে। অর্থাৎ জলাধার গঠনের পূর্বেই তা ফলপ্রসূভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
এইচআইভি শিশু
এইচআইভি সংক্রমিত এক মায়ের শিশুর ওপর মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তাররা এবং ডন ঘনচি ফাউন্ডেশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ল্যানসেট মেডিকেল জর্নালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, জন্মের পর থেকে তার ওষুধের চিকিৎসা শুরু হয়। ধীরে ধীরে রক্ত থেকে এই মরণঘাতী ভাইরাস অদৃশ্য হয়ে যায়। তিন বছর পর এটা পুনরায় ফিরে আসে।
ডাক্তাররা বলেন, 'এই ফলাফল দেখে ঐ মায়ের সাথে আমরা একটা চুক্তি করে হ্রাসকরণ থেরাপি বন্ধ করে দিই। এক সপ্তাহ ধরে সবকিছু ভালোই ছিল কিন্তু চিকিৎসা বন্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভাইরাস পুনরায় ফিরে আসে।'
মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারিও ক্লেরিচি বলেন, 'সংক্রমণের কয়েকঘন্টার মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং লুকিয়ে যায়। তাই চিকিৎসার মাধ্যমে এটা নির্মূল করা সম্ভব হয় না।
আপনি রোগীর চিকিৎসা বা রোগের সাথে মধ্যস্ততা করতে পারেন কিন্তু সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করতে পারবেন না। এখন পর্যন্ত এটা থেকে পরিপূর্ণভাবে নিরাময়ের সম্ভবনা জিরো।'
দূরবর্তী প্রত্যাশা
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক সঞ্জয় সিনানায়েক বলেন, 'রক্তে অনির্ধারণযোগ্য এইচআইভি ভাইরাসের অর্থ এটা নয় যে শরীর পুরোপুরি ভাইরাস মুক্ত। নিরাময় হওয়ার পূর্বে কিছু পথ আছে।
এ পর্যন্ত মাত্র একজন ব্যক্তি এইচআইভি থেকে নিরাময় পেয়েছে। ২০০৭ সালে টিমথি রায় ব্রাউন নামে এক ব্যক্তি এই ভাইরাস প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। একজন দাতার মাধ্যমে তাঁর অস্তি পরিবর্তন করা হয়। এটা ছিল বিরল জিনগত পরিবর্তন। পাঁচ বছর পর তার মধ্যে আর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যায়নি।' সূত্র: বিবিসি।
কেএইচ





