মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের জন্য প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের বৈধতা দেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারিভাবে অ্যাম্বুলেন্সের অপ্রতুলতার কারণে সঠিক সময়ে মুমূর্ষু রোগীকে যাতে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায় সেলক্ষ্যে তাদের বৈধতা প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালিক বলেন, প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সামনে বিপুলসংখ্যক প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সরকারিভাবে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা কম থাকায় রোগী পরিবহনে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিঃসন্দেহে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কিন্তু প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় কোনো নীতিমালা না থাকায় খেয়াল-খুশি মতো পরিচালিত হচ্ছে। একটি আদর্শ অ্যাম্বুলেন্স কী ধরনের হবে, পরিবহনকালে রোগীর শারীরিক অবস্থার বেশি অবনতি হলে কী কী যন্ত্রপাতির সাহায্যে চিকিৎসা প্রদান করে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে- সে সংক্রান্ত কোনো সরকারি নীতিমালা বা নির্দেশনা নেই।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলো সত্যিকার অর্থে রোগী পরিবহনের উপযোগী করে তুলতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও মালিকদের রেজিস্টার্ড করার চিন্তাভাবনা করছে।
সরকারিভাবে রেজিস্টার্ড হলে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সকে দেয়া হবে। ক্রমানুসারে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাছে টেলিফোন বা মোবাইল চলে যাবে।
অ্যাম্বুলেন্সে কী কী ধরনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকবে, গাড়ির ড্রাইভারের নাম, ঠিকানা, পরিচয়, লাইসেন্স নাম্বার, কোন এলাকা থেকে কোন এলাকায় যেতে কত ভাড়া দিতে হবে- সবকিছু নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের নিচে চাপা পড়ে এক গৃহবধূ ও তার সন্তানসহ চারজন নিহত হন। এ সময় গাড়িটি হেলপার চালাচ্ছিল।
অ্যাম্বুলেন্সের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনার পর সারা দেশে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে।
অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্সের মালিক হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তাদের বাধার মুখে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা রোগী নিয়ে যেতে পারেন না। তারা খেয়াল-খুশি মতো ভাড়া হাঁকে।
ইচ্ছে করলেও রোগীর স্বজনরা একটু কম ভাড়ায় বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যেতে পারেন না। তারা মারধর করে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সকে তাড়িয়ে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা এ কথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রোগীদের স্বার্থে অবশ্যই প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
এমএনজে





