সচেতনতার অভাবেই দেশে স্তন ক্যান্সার পরিস্থিতির ভয়ানক রুপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন দাবি করেন ক্যান্সার ফোরামের সদস্যরা। সচেতনতা বাড়াতে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর বেসরকারি ভাবে ১০ই অক্টোবর স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে বলেও জানান তারা।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্ধ ছাড়াও ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার সচেতনতার প্রতীক হিসেবে সবাইকে একদিনের জন্য গোলাপী ফিতা অথবা পোষাক ধারণ করার আহবান জানানো হয়।
চিকিৎসকগণ জানান, দেশের বাইরে না গিয়ে লক্ষ টাকা না দিয়ে বরং দেশেই স্বল্প ব্যয়ে স্তন ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব। এবং সেটি দেশের ২৯টি মেডিকেল কলেজে করা যায়।
চিকিৎসকগণ স্তন ক্যানসার চিনার জন্য নিজেই নিজের স্তন পরিক্ষা করার কিছু কৌশলও বলে দেন, তারা বলেন,মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে যদি নিয়মিত ভাবে নিজের স্তন ভালভাবে পরিক্ষা করেন তাহলে যে কোন ধরণের অসামঞ্জস্য ও পরিবর্তন নিজেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন।
এ ক্ষেতে ঋতুবতী মহিলাদের মাসিক শেষ হওয়ার এক সপ্তাহর মধ্যে এ পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভাল হয়। কারণ সে সময়ে স্তন কিছুটা হালকা হয়ে থাকে এবং ব্যথা কম হয়। আর যাদের ঋতুস্যাব বন্ধ হয়ে গেছে অথবা জরায়ু অপারেশন করা হয়েছে তারা মাসের যে কোন একটি দিন বেছে নিতে পারেন।
প্রথমে স্তন টিস্যুর উপরের দিকে কন্ঠহাড় হতে নিচে ব্রা লাইন এবং বুকের মধ্যভাগ হতে বগলের নিচ পর্যন্ত প্রতিমাসে নিজে পরিক্ষা করার সময় এই পুরো এলাকা ভালভাবে লক্ষ রাখতে হবে।
আয়নার সামনে দাড়িঁয়ে পর্যাপ্ত আলোয় দু'বাহু দেহের দু'পাশ ঝুলিয়ে দাড়াতে হবে। দু'বাহু মাথার উপর বা পেছনে উচিঁয়ে ধরতে হবে।
একইভাবে দু'বাহু কোমর চেপে দাড়াতে হবে,যাতে বুকের মাংশপেশি টানটান থাকে। হালকা করে স্তনের বৃন্ত চেপে দেখতে হবে, কোন রস বের হয় কিনা।
এতে স্তনের আকার, আকৃতি ও রং এর পরিবর্তন আছে কিনা, ত্বকের কোন রং পাকা কমলার খোসার মত বা পুরু হয়েছে কিনা, বোটাঁ দেবে গেছে কিনা, বোটা থেকে নিঃসৃত রং কি এবং রক্ত বের হয় কিনা।
আবার বিছানায় শুয়ে বা গোসলের সময় ডান কাধেঁর নিচে বালিশ বা তোয়ালে ভাজ করে দিতে হবে যাতে বুক ও স্তন মোটামুটি একই সমান্তরালে থাকে। একই ভাবে বাম পাশে পরিক্ষাটি করতে হবে।
গোসলের সময় হাতে সাবান মেখে পরিক্ষা করতে হবে। ডান স্তন পরিক্ষা করার সময় ডান হাত মাথার উপর রেখে বাম হাত ব্যবহার করতে হবে।
হাতের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হচ্ছে আঙ্গুল, তাই কোন অসঙ্গতি থাকলে আঙ্গুলের স্পর্শে সহজেই অনুভূত হয়। প্রথমে একটু হালকা চাপ, পরবর্তীতে আরও একটু ভারী চাপ এবং তৃতীয় পর্যায়ে বেশ জোরে চাপ দিয়ে স্তন টিস্যু সম্বলিত পুরো এলাকার পরিক্ষা করতে হবে। স্তনে রাখা আঙ্গুল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বারবার পরিক্ষা করুন। আর এভাবেই আপনি স্তন ক্যানসার নিজেই শনাক্ত করতে পারবেন, আর কোন লক্ষণ দেখা দিলে আপনার পাশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়।
এমএ





