দূষিত বাতাসে বড়দের চেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় শিশুরা। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। তাই বায়ু দূষণ প্রতিরোধে, সাড়ে তিনশো কোটি পাউন্ড খরচে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ব্রিটেনের সরকার।
বায়ু দূষণ, ছোট বড় সবারই স্বাস্থ্যের ওপরে প্রভাব ফেলে। যুক্তরাজ্যের এক গবেষণা বলছে, বড়দের তুলনায় শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, বায়ু দূষণ।
গবেষকদের দাবি, বাতাসের সবচেয়ে নিচের স্তরে মাটির কাছাকাছি থাকে বিষাক্ত ধোঁয়াশা। আর উচ্চতায় কম হওয়ায় শিশুরাই এ বিষাক্ত ধোঁয়াশা নি:শ্বাসের সাথে বেশি গ্রহণ করে। এনভায়রনমেন্টাল চ্যারিটি গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যানের গবেষণা বলছে, ব্যস্ত রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বড়দের তুলনায় ৩০ ভাগ বেশি বিষাক্ত বায়ু গ্রহণ করে শিশুরা।
বায়ু দূষণ কমাতে গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা উচিত সরকারের। এছাড়া একজনের একটা গাড়ির ধারণা পাল্টে গাড়িতে লিফট দেয়ার ব্যবস্থাও চালু হতে পারে।
যে পরিবেশে সুস্থ্য বায়ুতে শ্বাস নেয়া যায় না সেখান শিশুদের বাস করা উচিত নয়। এটা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শুধু হাটার সময়ই নয়, যেসব শিশু গাড়িতে স্কুলে চলাফেলা করে তারাও সুরক্ষিত নয়। গবেষণা বলছে, পায়ে হেঁটে চলা শিশুদের তুলনায় দ্বিগুন হারে নাইট্রাস অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ুতে শ্বাস নেয় তারা।
হেলথ অ্যাট গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যানের প্রধান লারিসা লকউড বলেন, 'যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন ২৩ লাখ শিশুকে গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে যায় বাবা-মারা। ফলে নিয়মিতই গাড়ির বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে হয় তাদের। বাবা-মায়ের উচিত বাচ্চাদের দূষিত বায়ু থেকে দূরে রাখা। '
বায়ুতে থাকা অতি ক্ষুদ্র পদার্থ শিশুদের ফুসফুসে সহজেই আটকে যায়। দীর্ঘ মেয়াদে যা অ্যাস্থমা, কার্ডিও ভাসকুলার রোগ, এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারেরও কারণ হতে পারে। এমন হুমকি থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে বায়ু দূষণ প্রতিরোধে সাড়ে তিনশ কোটি পাউন্ড ব্যয় নির্ধারণ করেছে, যুক্তরাজ্য সরকার।
এসএম





