বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল জিটিভি তিন বছরের পথপরিক্রমা শেষে ২০১৫ সালের ১২ জুন ‘যা দেখতে চান পাবেন’ স্লোগান নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হয় নতুন রূপে। কিন্তু সবাই কি যা দেখতে চায়, সেটা পায়?

দেশের দৃষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ছানিসহ চোখের বিভিন্ন সমস্যায় পার করছেন দৃষ্টিহীন জীবন। জগত যাদের কাছে অন্ধকার, তাদের জন্য ‘যা দেখতে চান পাবেন’ কথাটি অনেকটাই পরিহাসের মতো।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সেইসব দর্শকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এমন হাজারো মানুষের জীবনকে অর্থপূর্ন করতে জিটিভির ভিন্ন এক উদ্যোগ ‘স্বপ্ন দেখে চোখ’। বেসরকারি সংস্থা সাইট সেভার্সের কারিগরি সহযোগিতায় দৃষ্টিহীন মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেয়া এবং তাদের স্বপ্নপূরনের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে মানিবক এবং নান্দনিক এই অনুষ্ঠানটি।

এখানে প্রতিটি পর্বে একজন দৃষ্টিহীনের জীবন সংগ্রাম, তার স্বপ্ন এবং চোখ অপারেশনের পর তার বদলে যাওয়া জীবন এবং স্বপ্নপূরণের কাহিনি উঠে আসবে। ‘স্বপ্ন দেখে চোখ’র মাধ্যমে জীবন বদলে যাওয়া তেমনই এক যুবক শেরপুরের সামিউল। মাত্র ছয় মাস বয়স থেকে চোখের আলো হারিয়েছে সে।

আঁধার ভরা শৈশব কৈশোরে সামিউলকে পাড়ি দিতে হয়েছে জীবন সংগ্রামের এক লম্বা পথ। কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সামিউল ভালোবেসেছে ক্রিকেটকে। সামিউলের স্বপ্ন ছিলো একদিন ফিরবে চোখের আলো। স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের সাথে বাংলাদেশের খেলা দেখেবে সেও।

জিটিভি এবং সাইটসেভার্সের যৌথ উদ্যোগে সামিউল ফিরে পেয়েছে দৃষ্টি। এবার তার আরেকটি স্বপ্ন পূরণের হলো। গতকাল ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি সে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বসেই উপভোগ করেছে।

জীবনের লালিত এই স্বপ্ন পূরণের দিনটাতে সামিউল ছিলো অনেক বেশিই আবেগপ্রবণ। ছলছল চোখে সে জানায়, ‘জীবনে কোনোদিন ভাবতে পারিনি পৃথিবীর আলো দেখবো, সৌন্দর্য দেখবো। সেই ছোটবেলায় অনুভব করতাম সবাই ক্রিকেট নিয়ে কী আবেগী।

খেলা দেখা নিয়ে সবার সে কী আগ্রহ! আমি খুব কষ্ট পেতাম দেখতে পারতাম না বলে। অবশেষে দৃষ্টি আমি ফিরে পেয়েছি। এবং মাঠে বসে টাইগারদের জয় দেখেছি। এই দিনটি আমার জীবনের সেরা দিন হয়ে থাকবে।’

জিটিভি কর্তৃপক্ষ জানায়, সামিউলের স্বপ্নপূরনের মধ্য দিয়েই ‘স্বপ্ন দেখে চোখ’ তার যাত্রা শুরু করলো। খুব শিগগিরই জিটিভির পর্দায় দেখা যাবে ‘স্বপ্ন দেখে চোখ’ অনুষ্ঠানটি।


এমএনজে