স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে যাদের একটি বিশেষ জিন মিউটেশনের শিকার হয়, তাদের এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে৷ তবে সময়মতো মেমোগ্রাফি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি খানিকটা কমিয়ে আনা সম্ভব৷

সম্প্রতি গবেষণায় এমনটা প্রকাশ পেলেও, এ পরীক্ষা কতটা নিরাপদ তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে৷

এর আগে ২০১২ সালে ব্রিটেনে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, মেমোগ্রাম বা মেমোগ্রাফির মাধ্যেমে স্তন ক্যানসার পরীক্ষায় যদি একজনের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়, তার সঙ্গে তিনজনকে ক্যানসারের চিকিৎসা দেয়া হয় পুরোপুরি বিনা কারণে৷ তবে নরওয়ের নারীদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় মেমোগ্রাফির দুর্বলতার চেয়ে ইতিবাচক দিকই বেশি পেয়েছেন গবেষকরা৷

‘আপনার ক্যানসার ধরা পড়েছে’এমন দুঃসংবাদ শোনার জন্য কেউ কখনো অপেক্ষা করে না৷ তবে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে হয়তো ক্যানসার রোগীর সংখ্যা অর্ধেক হতে পারে৷ ক্যানসার রোগীর প্রতি পাঁচজনের একজনই হচ্ছে ধূমপায়ী৷ বিষাক্ত তামাকের ধোঁয়া যে শুধু ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যই দায়ী তা নয়, ধূমপান অন্যান্য ক্যানসারের হওয়ারও একটি কারণ৷ তবে ধূমপান ক্যানসার হওয়ার একমাত্র কারণ নয়৷

১৯৮৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি নরওয়েজীয় নারীদের স্তন ক্যানসার পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন৷ সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প এখনো চলছে৷

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মেমোগ্রাম করতে আসা প্রতি ৩৬৮ জনের মধ্যে অন্তত একজনের জীবন এই পরীক্ষার কারণে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে৷ এভাবে স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা গেছে প্রায় ২৮ শতাংশ৷ ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে মঙ্গলবার এই গবেষণা প্রতিবদেনটি প্রকাশ করা হয়৷

এ প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির লার্স ভাটেন বলেন, ‘‘মেমোগ্রাফির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়৷ কিন্তু সমস্যা হলো, এ পরীক্ষা এতটাই ‘সেনসেটিভ' যে ক্যানসারের ঝুঁকি নেই –এমন টিউমারও এতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যায়৷''

তার মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার পরীক্ষার যে কর্মসূচি চলছে তা চালিয়ে যেতে সমস্যা নেই৷ তবে আক্রান্ত নারীদের এ রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে৷

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সে কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা৷ তবে ধূমপান স্বাস্থ্যের ঠিক কতটা ক্ষতি করে, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই৷ জার্মানির ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ধূমপান করার কারণেই বছরে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়৷ আর বছরে ৩,৩০০ জন মারা যায় ধূপায়ীদের কাছাকাছি থেকে সিগারেটের ধোঁয়া গ্রহণ করার কারণে৷

এদিকে বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬০০ নারীর ওপর পরিচালিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের চিকিৎসার সময় অনেকের একটি বিশেষ জিনে পরিবর্তন ঘটে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়৷

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবদেন বলা হয়েছে, ওই জিন মিউটেশন প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ তৈরি করা গেলেই স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে৷

এর আগে এক গবেষণায় ধারণা পাওয়া গিয়েছিল, কেমোথেরাপি নেয়ার পরও স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর পেছনে রয়েছে জিনগত সমস্যা৷ নতুন গবেষণায় সেই জিনটিই বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেছেন, যেটি আসলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট৷

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিসিএল২০ নামের এই জিনটির বদলে যাওয়ার একটি কারণ হয়ত এ গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে৷ তবে পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে হলে অন্য কারণগুলোও তাঁদের জানতে হবে। সূত্র: ডয়চে ভেলে

ঢাকা, ২৩ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ