আঘাতজনিত বা বিকলাঙ্গ রোগীর হাত-পা না কেটে ‘ইলিজারভ’ (খাঁচা পদ্ধতি) চিকিৎসায় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় আরোগ্য লাভ সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তারা বলেছেন, ভারতে এসব রোগের চিকিৎসা করতে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা, দেশের বেসরকারি হাসপাতালে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আর সরকারি হাসপাতালে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়।

এক্ষেত্রে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একজন রোগীর চিকিৎসা করানো সম্ভব বলেও দাবি করেন চিকিৎসকরা।

তাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশে অর্থোপেডিক ও ট্রমা রোগির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এজন্য আঘাতজনিত বা বিকলাঙ্গ রোগির চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে।

শুক্রবার ময়মনসিংহের শাহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইলিজারভ অর্থোপেডিক সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। ইলিজারভ চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান মানিক।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন কবীর মুকুল। সেমিনার পরিচালনা করেন ডা. মো. মোর্শেদুল হক। সেমিনারে চিকিৎসা গ্রহণকারী কয়েকজন রোগী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

ডা. কামরুজ্জামান মানিক বলেন, ‘ইলিজারভ’ ১৯৫০ সালে রাশিয়ায় আবিষ্কৃত অর্থোপেডিক শাস্ত্রের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। অর্থোপেডিকের গতানুগতিক চিকিৎসা পদ্ধতির যেখানে শেষ, সেখানেই ইলিজরভ চিকিৎসা শুরু। এটি একই সঙ্গে সফট ও হার্ড টিস্যুর চিকিৎসা।

শিশু থেকে বৃদ্ধ যেকোনো বয়সের রোগীর চিকিৎসা করা যায়। এর মেয়াদকাল চার মাস থেকে এক বছর। মূলত হাত-পা কেটে ফেলার বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি এটি। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ব্যাপারে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তিনি জানান, গত তিন বছরে ময়মনসিংহে সরকারি পর্যায়ে ৫ জন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১৩ জন রোগীকে ইলিজরভ রোগীর চিকিৎসা হয়েছে।

ডা. হুমায়ুন কবীর মুকুল বলেন, এ পদ্ধতির কারণে বেশ কিছু রোগীর হাত-পা না কেটেই ভালো হয়েছে।

এমবি