প্রয়োজনীয় ডাক্তার আছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট তিন তলা স্বাস্থ্য কমপেক্সর ভবন আছে, নার্সসহ জনবলও আছে তারপরও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইনডোর ও আটডোর চালু হয়নি। এর নাম পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে এ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে শেষ হয় কাজটি। তখন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে লোক পদায়ন দেওয়া হয়।
কিন্তু ঔষধ সরবরহ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ইনডোর ও আটডোর চালু না হওয়ায় ডাক্তাররা শুধূ ব্যাবস্থা পত্র দিয়ে রোগীদের খালী হাতে ফিরিয়ে দেন। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এসব কিছু থাকার পরও ইনডোর ও আটডোর তিন বছরেও চালু না হওয়ায় এবং কোন কাজ না থাকায় ডাক্তার ও নার্সদের ডেপুটেশনে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অথচ প্রতিমাসে জিয়ানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের বেতন ভাতা উত্তোলন করতে হয়। তিন বছর ধরে এ অবস্থা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বিভিন্ন প্রশাসনিক সভায় হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে কথা বললেও তা বাস্তবে রুপ লাভ করেনি।
ফলে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলবর্তী এ উপজেলার হাজারো মানুষ হাসপাতাল থাকতেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় ডাক্তাররা তাদের চেম্বারে বসে আছেন, রোগীরা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে ডাক্তার দেখাবার জন্য অপেক্ষা করছেন। ডাক্তাররা অনেক সময় পর রোগী দেখলেও শুধূ ব্যাবস্থা পত্র দিয়ে রোগীদের খালী হাতে ফার্মেসী থেকে ঔষধ নিতে বলছেন।
উপজেলার ১০ কিঃ মিঃ চন্ডিপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে এসে ৭০ বছরের বৃদ্ধা হবিরুন নেছা জানান, “মুই ডাক্তার দেহাইছি মোরে কোন ঔষুধ দেয় নায়”। এভাবে প্রতিদিন শত শত লোক ঔষধ না পেয়ে শুকনা মুখে খালি হাতে ফিরে যায়। তেমনি জরুরী কোন রোগীকে এখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায় না। তাদেরকে ১৪ কিঃ মিঃ দুরে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়।
এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার প্রশান্ত কুমার জানান, ডাক্তার আছে, জনবল আছে শুধূ ঔষুধ সরবরহ ও ইনডোর চালু হলে এ এলাকার মানুষের কিছুটা স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া যেত। কিছু দিন আগে একটি এ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে ।
এলাকা বাসীর দাবী দ্রুত জিয়ানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ সরবরহসহ ইনডোর ও আডটডোর চালু হলে এলাকা বাসী দীর্ঘ দিনের প্রতিক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা পেত।
এমকে





