সিসা সমৃদ্ধ ম্যাগী নিয়ে যখন মহাবিপদে নেসলে ইন্ডিয়া, তখনই গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে প্রতিষ্ঠানের চিন্তা বাড়ালো তাদের আরেকটি পণ্য। বাচ্চাদের জন্য নেসলের তৈরি কৌটার দুধে এবার মিলল জ্যান্ত পোকামাকড়। যা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১৮ মাসের এক শিশু। 


ম্যাগীকাণ্ড শুরু হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে। যার ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা ভারতে। আর তা-ই সুনামির বিধ্বংসী রূপ হয়ে নাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের নামজাদা প্রতিষ্ঠান নেসলে ইন্ডিয়াকে। এবার নেসলের বিরুদ্ধে অভিযোগের উৎসস্থল তামিলনাড়ু। কোয়েম্বাটুরের এক ট্যাক্সিচালক প্রেম অনন্ত তার ১৮ মাসের ২ যমজ সন্তানের জন্য কিনেছিলেন নেসলের NAN PRO3 মিল্ক পাউডার। এক শিশুকে সেই দুধ খাওয়ানোর পরই যখন তিনি আরেকটি খাওয়াতে যাবেন, তখনই দেখতে পান সেই দুধে রয়েছে পোকামাকড়ের জীবন্ত লার্ভা। দুধ খেয়ে ত্বকে অ্যালার্জি হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। 

তাকে ভর্তি করতে হয় স্থানীয় হাসপাতালে। বিষয়টি নেসলের কাস্টমার কেয়ারে জানালে তারা কৌটাটি পাল্টে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। তাতে রাজি হননি ওই ট্যাক্সিচালক। ২৯ এপ্রিল তিনি তামিলনাড়ু ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে বিষয়টি জানান এবং পরীক্ষার জন্য সেই মিল্ক পাউডারের নমুনা পেশ করেন। 

নমুনা পরীক্ষার পর তামিলনাড়ু ফুড সেফটি উইং খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয় বলে ঘোষণা করে জানায়, নেসলের মিল্ক পাউডারের ওই নমুনায় পাওয়া গিয়েছে ২৮টি জ্যান্ত লার্ভা ও ২২টি চালের পোকা। বিশেষজ্ঞ দলের এক সদস্য আর দেনমোঝি জানিয়েছেন, ‘নেসলের মিল্ক পাউডার NAN PRO3-র যে নমুনা পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছিল, তার মান খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দেশিকা অনুযায়ী খাওয়ার যোগ্য নয়। কারণ এতে পাওয়া গেছে জ্যান্ত পোকামাকড়।’ 

এই রিপোর্ট জানার পর কোয়েম্বাটুরের খাদ্য নিরাপত্তা সেলে অভিযোগ জানান প্রেম অনন্ত। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা আর কাথিভরন জানিয়েছেন, এই রিপোর্টে এটা বলা যাবে না যে, নেসলের কোনো দ্রব্যই নিরাপদ নয়। যদিও এই ঘটনায় নেসলের তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এমএ