বিভিন্ন প্রচার ও অনুষ্ঠানে এবং যানবাহনের মাধ্যমে আমরা শব্দ দূষণের প্রতিযোগিতা করি।
এর প্রতিকারের জন্যে আমাদেরকে সবার আগে প্রতিবেশ ঠিক করতে হবে। এজন্য প্রত্যেক স্কুলে পরিবেশ ক্লাব গঠনের পাশাপাশি শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো দরকার। তাহলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সকালে বরগুনা জেলার সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বরগুনা জেলার প্রেসক্লাবের সভাপতি সঞ্জয় কুমার দাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা তথ্য অফিসার সেলিম মাহমুদ।
প্রকল্প সম্পর্কে সার্বিক ধারণা প্রদান করেন, বায়ুমণ্ডলীয় অধ্যয়ন কেন্দ্র-ক্যাপস এর গবেষনা পরিচালক ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর প্রভাষক আবদুল্লাহ আল নাঈম। সভায় বক্তব্য রাখেন সভায় বক্তব্য রাখেন বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মাহবুব হাসান, জিলা স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুদ্দিন শাহীন, গ্লোবাল ল থিংকার্স সোসাইটির সিইও মেহরাব অনিক, বাপার সদস্য আল আমিন, ট্রাকচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম হাওলাদার, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ বাবলুসহ আরোসুধিজন উপস্থিত ছিলেন। সেলিম মাহমুদ বলেন, শব্দ দূষণ কিলার এর ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে তিরিশ শতাংশ মানুষ শব্দ দূষণের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
এরমধ্যে ছাত্ররাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রচার কাজে মানুষ অনেক পরিমাণে শব্দ দূষণ করে। এর থেকে প্রতিকার জরুরী। সঞ্জীব কুমার দাস বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আগে সবার আগে আমাদের প্রতিবেশ ঠিক করতে হবে। আমাদের প্রতিবেশের সবাই যদি পরিবেশ সচেতন হয় তাহলে আমরা এই শব্দ দূষণ থেকে রক্ষা পাবো। মাহবুব হাসান বলেন, গাড়ির হর্ন বিকট শব্দ উৎপন্ন করে।
আমাদের সমাজে শব্দ দূষণের প্রতিযোগিতা চলে। নির্বাচনের সময় প্রচারের কাজে খুবই বিকট শব্দ উৎপন্ন করে যার মাত্রা অনেক বেশি। বিভিন্ন স্কুলে যদি পরিবেশ ক্লাব তৈরি করা যায়, তাহলে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভালো ফল পাওয়া যাবে। জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিজেরাই শব্দ দূষণের উৎস। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজেরা শব্দ দূষণের প্রতিযোগিতা শুরু করি। রাস্তাঘাটে অযথা ফোন দিয়ে অধিকমাত্রায় শব্দদূষণ করি।
এক্ষেত্রে ড্রাইভার দের কে সচেতন করা জরুরি। তাদের জন্য আলাদা সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম রাখতে হবে। মেহরাব অনিক বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের যে আইন গুলো রয়েছে সেগুলো পাবলিকলি জানানো জরুরি। এ বিষয় নিয়ে সকলেকে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে। আল আমিন বলেন, মাইকিং এর শব্দে মানুষের অনেক রকম অসুবিধা হয়, যা থেকে নিস্তার পেতে হলে মাইকিংয়ের সময় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।
একে আজাদ বাবলু বলেন, ড্রাইভাররা সব সময় যে অযাথা হরন বাজায় তা কিন্তু নয়। অনেক সময় বাধ্য হয়েই তাদেরকে জোরে হর্ন বাজাতে হয়। রাস্তায় কিভাবে চলাচল করতে হবে, বিশেষ করে শহর এলাকায়-এরকম ন্যূনতম জ্ঞান অধিকাংশ মানুষেরই নেই। সবাই যদি আইন মেনে চলত তাহলে সবার জন্য বসবাসের সুবিধা হয়।
বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত টিম বরগুনা শহরে শব্দদূষণের মাত্রা জানতে ৫ স্থানের সাউন্ড লেভেল মিটার স্থাপন করে। এ মেশিনটি প্রতি এক মিনিট পরপর তথ্য দেবে। যার মাধ্যমে শব্দদূষণের ২৪ ঘন্টা মাত্রা জানা যাবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্পটির মাধ্যমে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রতিটি জেলা শহরে শব্দ মাত্রা পরিমাপের বিষয়ে সমীক্ষা ও সচেতনতামূলক মতবিনিময়ের এই কাজে সহযোগিতা করছে ই কিউ এম এস কনসাল্টিং লিমিটেড এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।
এমআর





