বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেছেন, স্বাস্থ্য সেবাকে বাণিজ্য মুক্ত করতে পারলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অর্ধেক কমে যাবে।

আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)’র শহীদ ডা. মিলন হলে সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টস-এর ২য় বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টসের সভপাতি অধ্যাপক এ. এন. নাসিমউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ডা. মোঃ কুদ্দুস উর রহমানের পরিচালনায় এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু সফি আহমেদ আমিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সাইন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুল হক।

প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকদের সেবা দিয়ে রোগীর আস্থা অর্জন করতে হবে। ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ল্যাবটরী মেডিসিন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, সকল প্রকার অসততার মূল কারণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বাণিজ্যে পরিণত হওয়া। পরিপূর্ণ জীবনের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে বাণিজ্য থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব চিকিৎসক ও শিক্ষকদের নিতে হবে।

তিনি বলেন, বৃদ্ধ বয়সে অনেক চিকিৎসক ও উকিল কষ্টে ভুগেন। মনে হয়, তাঁদের উপর অদৃশ্য অভিশাপ রয়েছে। নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে সৎ চরিএে উজ্জীবিত হয়ে চিকিৎসাকে বাণিজ্য থেকে মুক্ত করে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে আলোচকগণ বলেন, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগ সঠিক রোগ নির্ণয়ে অতীব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগে বিশেষজ্ঞদের পদ খুবই কম । নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগসমূহ আরো সম্প্রসারণের মাধ্যমে উন্নতমানের সেবা প্রদান করা সম্ভব।

আলোচকগণ বলেন, বর্তমানে সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর ও উপজেলা হেলথ কমপেক্সে ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগ চালু আছে। ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগ সঠিক রোগ নির্ণয়ে অতিব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

এই বিভাগ সমূহে অন্তঃ ও বহিঃ বিভাগে আসা রোগীদের যাবতীয় রুটিনসহ অন্যান্য পরীক্ষ সমূহ সম্পন্ন করা হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট সরকারীভাবে সরবরাহ করা হয়।

এছাড়া বর্তমানে বেসরকারী পর্যায়ে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং রাজধানীতে অনেক বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সব প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগ চালু রয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও বিষেষজ্ঞ ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি না থাকায় এই বিষয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে সোসাইটির সদস্য সংখ্যা ১৬০ জন। অত্র সোসাইটির সকল সদস্য বিশেষজ্ঞ ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট। বিগত ১৯৯৮ সালে ৪০টি জেলা হাসপাতালে ০১টি করে কনসালটেন্ট প্যাথলজিস্টস পদ সৃষ্টি করা হয়, এর বেশীর ভাগই পদে অন্যান্য বিষয়ের স্পেশালিস্টদের পদায়ন করা হয়েছে।

এই সকল পদ সমূহে ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টসদের পদায়ন করা জরুরি। বর্তমানে অবশিষ্ট ২৪টি জেলা হাসপাতালে ও উপজেলা হাসপাতালে ০১টি করে কনসালট্যান্ট-এর নতুন পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

দেশের সকল সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরী মেডিসিন বিভাগ চালু করা এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া সময়েরই দাবি।

সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টস-এর মূল উদ্দেশ্য হল দক্ষ জনবল তৈরীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে উন্নত ল্যাবরেটরী সাভিস প্রদান করা।

একে/এসএইচ