বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ভাইরাসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে সবাইকে। এটি একটি বিরল ভাইরাল সংক্রমণ, যা ততটাও সংক্রামক নয়। মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

জানলে অবাক হবেন, মাঙ্কিপক্সের নামকরণ করা হয় ৬৪ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৮ সালে। সর্বপ্রথম মাঙ্কিপক্সের ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায় বানরের শরীরে।

১৯৭০ সালে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে যখন গুটিবসন্ত নির্মূলের জোরসোর চেষ্টা চলছে তখনই আবার মাঙ্কিপক্সের প্রথম কেস রেকর্ড করা হয়েছিল।

এরপর থেকে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষের মধ্যে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়েছে। যা এখন আফ্রিকা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে।

মাঙ্কিপক্স যেভাবে ছড়ায়:

হঠাৎ করে কেন এই অস্বাভাবিক প্রাদুর্ভাব ঘটছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। মাঙ্কিপক্স মানুষের মধ্যে সহজে ছড়ায় না। তবে ইঁদুরের মতো বন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা বা মাঙ্কিপক্সের জীবাণু আছে এমন পোশাক, বিছানা বা তোয়ালে ব্যবহারের মাধ্যমেও এই রোগের ভাইরাস ছড়াতে পারে। মাঙ্কিপক্স ফুসকুড়ির তরল কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

ইউকেএইচএসএ (ইউকে হেলথ সিকিউরিটি অ্যাজেন্সি) থেকে ডা. সুসান হপকিন্স বলেছেন, ইউকে ও ইউরোপে সাম্প্রতিক কেসগুলো সমকামী ও উভয়কামী পুরুষদের মধ্যে পাওয়া গেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসলে অন্যজনও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।

মাঙ্কিপক্সের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মাঙ্কিপক্সের ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ৬-১৩ দিন কিংবা ৫-২১ দিন পর্ন্তও হকে পারে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা, পিঠে ব্যথা, লিম্ফ নোড ফোলা, ঠান্ডা লাগা ও ক্লান্তি।

জ্বর হওয়ার ১-৩ দিনের মধ্যে শরীরে ফুসকুড়ি বের হয়। ফুসকুড়িগুলো মুখ, হাতের তালু, পায়ের তলায়, মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লি ও যৌনাঙ্গের পাশাপাশিও হতে পারে। মাঙ্কিপক্স সাধারণত একটি স্ব-সীমিত রোগ যার লক্ষণগুলো ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

মাঙ্কিপক্সের টিকা আছে?

যেহেতু মাঙ্কিপক্স ও গুটিবসন্তের মিল আছে। গবেষণা অনুসারে, ইমভেনেক্স স্মলপক্স ভ্যাকসিন মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে প্রায় ৮৫ শতাংশ কার্যকর। মাঙ্কিপক্স গুটিবসন্তের তুলনায় কম সংক্রামক ও কম গুরুতর।

ডব্লিউএইচওর মতে, এরই মধ্যে নতুন টিকা তৈরি করা হয়েছে, যা মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। গুটিবসন্তের চিকিৎসার জন্য উদ্ভাবিত একটি অ্যান্টিভাইরাল অ্যাজেন্টকেও মাঙ্কিপক্সের চিকিৎসার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

এমআই