মৃত শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত তথ্য উপস্থাপন করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুরুতে ১৫টি বডি ব্যাগ উদ্ধার করা হলেও, ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা গেছে—সবগুলো আলাদা মৃতদেহ নয়। একাধিক ব্যাগে একাধিক ব্যক্তির দেহাংশ পাওয়া গেলেও, কিছু ব্যাগে একই ব্যক্তির বিভিন্ন অঙ্গ ছিল।
রোববার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
সিএমএইচ সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের মর্গে ১৫টি বডি ব্যাগ রাখা হয়। তুরাগ থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, এর মধ্যে ১১টি সম্পূর্ণ মৃতদেহ, ২টি অপূর্ণাঙ্গ মৃতদেহ এবং ৫টি বিচ্ছিন্ন দেহাংশ ছিল। এর মধ্যে ৯টি মৃতদেহ স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করেন এবং সেগুলো ২১ ও ২২ জুলাই হস্তান্তর করা হয়।
অবশিষ্ট ২টি সম্পূর্ণ মৃতদেহ, ২টি অপূর্ণাঙ্গ মৃতদেহ এবং ৫টি বিচ্ছিন্ন দেহাংশ নিয়ে ফরেনসিক বিশ্লেষণ শুরু করে সিআইডি। ২২ জুলাই তারা সিএমএইচ ও ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি নমুনা এবং স্বজনদের কাছ থেকে ১১টি রেফারেন্স নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় দেখা যায়, একটি বডি ব্যাগে থাকা ৫টি দেহাংশ দুটি শিক্ষার্থী—লামিয়া আক্তার সোনিয়া ও আফসানা আক্তার প্রিয়ার দেহের অংশবিশেষ, অর্থাৎ সেগুলো পৃথক পাঁচজনের নয়।
এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিএমএইচে সংরক্ষিত মৃতদেহের প্রকৃত সংখ্যা দাঁড়ায় ৫, যেগুলোর মধ্যে ৪টি নতুনভাবে শনাক্ত এবং ১টি পূর্বে শনাক্ত ছিল। এর সঙ্গে আগেই হস্তান্তর হওয়া ৯টি মৃতদেহ যুক্ত করে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪, যা ২৭ জুলাইয়ের হালনাগাদ তালিকায় প্রতিফলিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক চিঠির মাধ্যমে এই সংশোধিত সংখ্যা নিশ্চিত করে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান দুর্ঘটনায় মোট ১১২ জন ভুক্তভোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত ও আহতদের সংখ্যা নিম্নরূপ:
- জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট : ভর্তি ৬৬ জন, মৃত্যু ১৭ জন
- সিএমএইচ : ভর্তি ১১ জন, মৃত্যু ১৪ জন
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল : ভর্তি ১ জন
- টঙ্গী জেনারেল হাসপাতাল : মৃত্যু ১ জন (অজ্ঞাত)
- ইউনাইটেড হাসপাতাল : মৃত্যু ১ জন
- জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট : মৃত্যু ১ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো পৃথক মৃতদেহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কিছু দেহাংশ একই ব্যক্তির হওয়ায় মৃতের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা, দেহাবশেষের অপ্রতুলতা এবং স্বজনদের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে সর্বশেষ ফরেনসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মোট ৩৪ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে সিএমএইচে মৃতের সংখ্যা এখন ১৪।
এনএইচ