স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রসুতি মায়ের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করবে সরকার।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব করাতে নির্দিষ্ট এই অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিতে পারবে সাধারণ প্রসুতি নারী। প্রসূতি মায়েদের জন্য অচিরেই এই অ্যাম্বুলেন্সের সেবার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ সোমবার বিকেলে ইউনিসেফের সহযোগিতায় দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত ‘সকল প্রসুতির জন্য মানসম্মত সেবা আমাদের অঙ্গীকার" বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। প্রথম আলো কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম, কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোইত পিয়েরে লারমি, কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির বাংলাদেশ প্রতিনিধি জো হাইয়ুন গুইসহ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, ইউএনএফপিও, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউএসএআইডির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মেয়েদের বিয়ের ন্যুনতম বয়স ১৮ বছরের নীচে করা হবে না জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ নিরাপদ প্রসবের জন্য বড় বাধা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষার হার বাড়ানো, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমানে গ্রামে ডাক্তার সংকট নেই। সরকারের কঠোর মনিটরিং এর কারণে গ্রামের মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে অ্যানেস্থেশিস্ট সংকট দূর করতে ৩৪ তম বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এক বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হবে। অ্যানেস্থেশিয়ায় সাহায্য করে গ্রামের হাসপাতালে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে নতুন চিকিৎসকরা ভূমিকা রাখবেন যা মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অর্জনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নয়ে যাবে।

ইআর/এমআইএস