শহুরে জীবনের জনপ্রিয় পানীয়, কফি। কাজের ফাঁকে কিংবা আড্ডায় অনেকেরই সঙ্গী এটি। মূলত, দেহমন চাঙা করতেই এর ব্যবহার। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত কফি পানে আছে স্বাস্থ্য-সুবিধাও। কফিতে ঝুঁকি কমে ক্যান্সার, স্ট্রোক বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের।
পানীয় হিসেবে এখন কফির কদর বিশ্বজুড়েই। দিনে ৩-৪ কাপ কফি পানে রয়েছে, অনেক স্বাস্থ্য-সুবিধা। ব্রিটিশ গবেষকরা বলছেন, কফি কেবল লিভারের জন্য উপকারী-ই নয়, ক্যান্সার ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়, জনপ্রিয় এই পানীয়।
দুই শতাধিক গবেষণা কাজের তথ্য-উপাত্ত থেকে নতুন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, দিনে তিন কাপ কফি পানে কমে, হৃদরোগ ও তা থেকে সৃষ্ট মৃত্যুঝুঁকি। আলজেইমার ও পারকিনসন্স রোগ প্রতিরোধেও দারুন কার্যকর কফি।
গবেষকরা বলছেন, কফিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস ও অ্যান্টি-ফিব্রোটিকস কোষের ক্ষয় রোধ করে। কফি পানে রক্তে বাড়ে, অ্যাড্রিনাল হরমোন। যা মনোযোগ বাড়ায়, দূর করে বিষন্নতা। দেহের চর্বি কমিয়ে ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে, কফি। এমনকি কফি টাইপ-টু ডায়াকেটিসেরও ঝুঁকি কমায়।
০১. ক্যান্সার ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
০২. লিভার ও হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী
০৩. কোষের ক্ষয়রোধ ও ওজন কমায়
০৪. বাড়ায় মনোযোগ ও কর্মদক্ষতা
অবশ্য, কফি পানের এসব সুবিধা পেতে, ছাড়তে হবে অতিরিক্ত চিনি ও ক্রিম। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কফি পান হতে পারে বিপজ্জনক। এতে গর্ভপাত, স্বল্প ওজনের সন্তান ও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসবের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের দিনে ২ কাপের বেশি কফি পান না করার পরামর্শ দিয়েছে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস।
ক্ষতিকর দিক:
০১. অতিরিক্ত চিনি ও ক্রীমে আছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
০২. গর্ভাবস্থায় বাড়তি কফি পানে ক্ষতিই বেশি
পানীয় হিসেবে প্রথম কফির ব্যবহার শুরু হয় ইয়েমেনে। ষোড়শ শতকে পারস্য-তুরস্ক হয়ে তা পৌঁছায় ইউরোপে।
কফিতে আছে ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ছাড়াও প্রয়োজনীয় বহু খনিজ উপাদান। নতুন এক জরিপ বলছে, ১৮ বছরের উর্ধ্বে শতকরা ৫৪ ভাগ মার্কিন নাগরিক দৈনিক কফি পান করেন।
এসএম





