সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিয়মিত হাজিরা কিছুতেই নিশ্চিত হচ্ছে না। হাজিরার জন্য স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন চিকিৎসকরা ব্যবহার করছেন না। এমনকি কোথাও কোথাও পরিকল্পিতভাবে এ মেশিন নষ্টও করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক মেশিন পাহারার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যাখ্যা দিতে ও মেশিন নষ্টকারীদের শনাক্ত করতে আবারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে লেখা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফাতেমা রহিম ভীনা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের উপস্থিতি মনিটর করছে। মনিটরকালে দেখা যায় যে, সারাদেশে চিকিৎসকদের ইলেকট্রনিক হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং কোথাও কোথাও পরিকল্পিতভাবে তা নষ্ট করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এ প্রেক্ষিতে স্থাপিত মেশিন ব্যবহার না করার বিষয়ে সেবা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ব্যাখ্যা তলব এবং বায়োমেট্রিক মেশিন নষ্ট করার বিষয়ে তদন্ত করে শনাক্ত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’

এরপর গত ১১ নভেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে রাখতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কর্মস্থলে কেউ না আসলে কোনো আপোস নেই।

তিনি বলেন, শনিবার বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও আমি এক নম্বর অগ্রাধিকার বিষয় বলেছি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি। চিকিৎসক যদি কর্মস্থলে থাকে আমার ৮০ ভাগ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তবে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

বায়োমেট্রিক মেশিন নষ্ট করার বিষয়ে পরিচালক বলেন, এটা হয়ত কেউ কেউ করছেন। তবে মেশিনগুলোরও সমস্যা আছে। আমরা সরবরাহকারীদের আপডেট মেশিন দিতে বলেছি।

বরিশাল বিভাগের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) পদ থেকে আগস্টে অবসর নেওয়া ডা. মো. সাইদুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্থাপন করা বায়োমেট্রিক মেশিনগুলোও কাজে আসছে না।

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়ী করে সাইদুর রহমান বলেন, আমরা চাইলে চিকিৎসকের কী সাধ্য অনুপস্থিত থাকে। আমি দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছি। তদবিরসহ নানা কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের ক্ষমা করে দেন।

কর্মস্থলে চিকিৎসকরা উপস্থিত না থাকার অভিযোগ বহুদিনের। গত ২০ আগস্ট ও ৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকদের হাজিরা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বায়োমেট্রিক যন্ত্রে চিকিৎসকদের হাজিরা নিশ্চিত করতে পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এরও আগে গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সিভিল সার্জন এবং সব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের সব সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক আদেশে নিজ নিজ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মস্থলে হাজিরা মনিটরিংয়ের জন্য স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন নষ্ট করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে অধিদফতরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ অনুযায়ী সিভিল সার্জন বা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কোনো তথ্যই পাঠাননি।

এ অবস্থায় আরও দুই কর্মদিবস সময় বেঁধে দিয়ে ওই সব যন্ত্র নষ্টের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আগের নির্দেশ কেন কার্যকর হয়নি, তা ব্যাখ্যাসহ জানাতে বলা হল। তা না হলে যে কর্মকর্তারা তথ্য পাঠাননি তাদের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল ওই চিঠিতে।

এএইচ