জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম গ্রহণকরা শিশুরা সামাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদের মতোই মানুষ। জীণ ত্রুটির কারণে তারা সূর্য রশ্মির বীকিরণের ফলে সৃষ্ট জটিলতায় আজ তাদের জীবন আবদ্ধ ঘরের চার দেয়ালের মাঝে।

শুক্রবার  উত্তরার কোয়ান্টাম হোটেল এণ্ড রিসোটে “জেনেটিক ডিসঅর্ডার আক্রান্ত শিশু: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনার এবং মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মজিবর রহমান এসব কথা বলেন।

মজিবুর বলেন, জেনেটিক ডিস-অর্ডার একটি জীন গঠিত রোগ।এই রোগের  আক্রান্তদের জন্য সূর্যের আলো অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু বাংলাদেশে এই রোগ সম্পর্কে মানুষের মাঝে অনেক কু-সংস্কার রয়েছে। জীন প্রণালী থেকে উদ্ভূতএরোগটি সম্পর্কে এখনো কোনো গবেষণা ধর্মী প্রতিবেদন তৈরি না হওয়াতেঅনেক সময় রোগী সম্পর্কে কোনো ধারণাই নিতে পারেন না ডাক্তার।

উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাধারণ মানেরই জীন নিন্ময়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ডাক্তার রোগী উভয়েই রোগটি সম্পর্কে অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, শিশু’র  জন্মের পূর্বে গর্ভবতী মা ও পরিবারকে কাউন্সিলিং করানোর মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। একই সাথে যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের পরিবারকেও সচেতন করা যায়। এই কাজটি সরকারের একার নয়, এজন্য প্রয়োজন সরকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের এগিয়ে আসা।

এই সচীব বলেন, আমাদের দেশে এখন এনজিও মানেই এখন ক্ষুদ্রঋণ, সঞ্চয়, জামানত ইত্যাদি। কিন্তু জেনেটিক ডিসঅর্ডার সাপোর্ট অর্গানাইজেশন-এর মতো বাংলাদেশে অন্যান্য এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি সরকারকে এসকল সমস্যা মোকাবেলার জন্য সাহায্য করে তাহলে এই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে আমি  দৃড়ভাবে আশাবাদী।

তিনি বলেন, এই সংগঠনটির সমাজকর্মীগণ সমাজের ভুক্তভোগী পরিবারের বোবা কান্না ও অব্যক্ত ব্যাথার সহমর্মি সংগঠন। আজকের সভার বিশিষ্ট জনদের বক্তব্যে এই উপেক্ষিত অংশের দুঃখ, ব্যথা ও সমস্যার কথা শুনে আমি আবেগে আপ্লুত হয়েছি।

তাদের বক্তব্যের সাথে আমার একাত্মতা প্রকাশ করছি। আমার জানা মতে, জেনেটিক ডিসঅর্ডার সাপোর্ট অর্গানাইজেশন ছাড়া অন্যকোন দেশী সংগঠন নেই যারা সমাজে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম গ্রহণকরা শিশু ও তাদের পরিবারের প্রতি এগিয়ে এসেছে। এ জন্য এ সংগঠনটি বিশেষভাবে ধন্যবাদ পাওযার যোগ্য। তবে তাদের কাজকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজন সমাজের সচেতন ব্যাক্তিদের সহযোগিতা ও সমর্থন।

জেনেটিক ডিস-অর্ডার সংগঠনের বার্তাসমূহ সংশ্লিষ্ট পরিবার ও তাদেরকে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক এমন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট পৌঁছে দেয়া আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

সেমিনারেবক্তব্য রাখেন, চেয়ারম্যান আইচি মেডিকেল কলেজহাসপাতালেরব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস উলফাত জাহান মুন, মামস এম এ আউয়াল মডেল স্কুলেরচেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল, বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও নির্বাহী পরিচালক গ্রীণ গোল্ড  সোসাইটি আবু বকর সিদ্দিক প্রমূখ।

এমএ