ঠিক শীত নয়, আবার গরমও নয়, আবওহাওয়ার এমন মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে হিমশিম খান অনেকেই। নষ্ট হয়ে যায় ত্বকের সৌন্দর্য। এসময় ত্বকের নমনীয়তা ও সজীবতা ধরে রাখতে অনেকেই ছুটে চলেন নামি-দামি বিউটি পার্লারে। কর্মব্যস্ত জীবনে ত্বকের যত্ন নিতে যাদের পার্লারে যাওয়ার একদম সময় নেই, তারা ঘরে বসে নিজেই নিতে পারেন নিজের ত্বকের যত্ন।
ত্বক ভালো রাখতে আমরা যতো কিছুই করি না কেন, ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে প্রথম শর্ত। তাহলে ত্বক থাকবে সুন্দর ও সজীব। এছাড়া নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করতে হবে। চলুন জেনে নেই ফাল্গুনের এ সময় কীভাবে ত্বকের যত্ন নেয়া যায়ঃ
- গোসলের আগে সারা শরীরে ভালো করে তেল ম্যাসাজ করুন। তিলের তেল ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। তিলের তেলের বদলে আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। যে তেলই ব্যবহার করুন না কেন, ম্যাসাজ করার আগে একটু গরম করে নেবেন। গ্লিসারিন ও গোলাপজল সমপরিমাণে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়।
- তৈলাক্ত ত্বকে পাতিলেবুর রস, নিমপাতার রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে পুরো মুখে লাগান। আধাঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাচা হলুদের রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে মুখে লাগান। প্যাক শুকিয়ে গেলে গোলাপজল দিয়ে মুছে নিন। কমলালেবুর খোসা বাটা, চালের গুঁড়ো সমপরিমাণ মিশিয়ে লাগান। প্যাক আধা শুকনো হলে প্রথমে দুধ লাগিয়ে স্ক্রাব করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
- যাদের হাতের চামড়া অত্যাধিক পরিমাণে রুক্ষ, তারা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার না করে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
- ত্বকে কালো দাগ হলে দাগযুক্ত স্থানে লেবুর রস ও মধু লাগান। লেবুর রস ও মধু ত্বকের কালো দাগ দূর করে। হাত-পায়ে গ্লিসারিন বা লোশন ম্যাসাজ করলে ত্বকের ভিতরে রক্ত-সঞ্চালনে হয়, ফলে ত্বক সজীব হয়ে ওঠে।
- এ সময় প্রচুর তাজা ফলমূল ও শাক-সবজি পাওয়া যায়, এসব খেলেও ত্বক ভালো থাকে।
- পানি ত্বকের ময়েশ্চারাইজ হিসেবে কাজ করে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে ত্বকের ময়েশ্চারাইজ বজায় থাকবে।
- মাসে অন্তত একবার ভালো কোনো বিউটিপার্লার থেকে মেনিকিউর ও পেডিকিউর করলে হাত-পায়ের ত্বক সুন্দর থাকে।
- খুব বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। আপনার ত্বক যেমনি হোক না কেন নিয়মিত যত্ন নিয়ে ত্বককে করে তুলতে পারেন উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়। তাই একটু সময় নিয়ে এ ফাগুনে আপনার ত্বক রাখুন প্রকৃতির মতোই প্রাণবন্ত ও সজীব।
কেএইচ





