চীনের পাশাপাশি আগামীর বিশ্বে সুপার পাওয়ার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা ভারতের মানুষের মধ্যে জীবনের প্রতি প্রত্যাশা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। তবে, নিয়ন্ত্রনহীন ভোগবিলাসে মত্ত থাকায় একশ্রেণীর মানুষ ক্রমেই অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছেন এবং অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি নিয়ে ভারতের কর্তা ব্যক্তিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তা হলো ডায়াবেটিস। দেশটিতে উদ্বেগজনকহারে বেড়েই চলছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এবং এই রোগে মৃত্যুর হার।
ভারতের স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএসসিআর [Indian Society of Clinical Research- ISCR] এর এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
ওই গবেষণায় বলা হয়, ভারতে ২০১২ সালে শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ মৃত্যবরণ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে দেশটিকে জরুরী ভিত্তিতে এই রোগ প্রতিরোধের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিক পর্যায়েই যাতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের চিহ্নিত করে যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যায় তার ব্যবস্থা করা এবং এই রোগের চিকিৎসা খরচ কমিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালের মধ্যে আনতে ভারত সরকারকে জোর পরামর্শ আইএসসিআর-এর।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা [World Health Organisation- WHO] এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ক্রমেই ডায়াবেটিস পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। তবে এই রোগের চিকিৎসা সেবার মানও ওইসব দেশে উন্নত হচ্ছে যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
গত ৭ই এপ্রিল পৃথিবীর নানা দেশে একযোগে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০১৬’র অন্যতম মূল থিম ছিল ‘ডায়াবেটিস ঠেকাও’ [Beat Diabetes] যা ডায়াবেটিস নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্বেগের চিত্রই প্রমাণ করে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএসসিআর এর সভাপতি সুনিলা থটে বলেন, “ভারতে জনস্বাস্থ্য খাতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডায়াবেটিস। দেশটির অর্থনৈতিক খাতের অন্যান্য সেক্টরগুলোতেও প্রতিনিয়ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ডায়াবেটিস।”
তার মতে, ভারতে ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিস রোগীদের দোরগোড়ায় আরও কম খরচে কিভাবে চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়া যায় সেজন্য বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল গবেষণা হওয়া দরকার যাতে এরই মধ্যে নেতিয়ে পড়া দেশটির স্বাস্থ্য কাঠামো খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা যেভাবে বেড়ে চলছে তা যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতে এই সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশংকা করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএসসিআর। [সূত্র: ইন্টারনেট, এনডিটিভি]
কেবি





