রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের নিউরো সায়েন্স মেডিকেল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট গভীর রাতে মুমূর্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুল ইসলাম শিকদারের ভর্তি না নিয়ে দুর্ব্যবহার করেছে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে।
রোগীর স্বজনরা জানান, মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত। গত ১৫ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ৩টার সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনরা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরে রোগীর আশংখাজনক অবস্থা দেখে ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিদায় করেন। রোগীর নাক-মুখ দিয়ে ব্লাড আসাতে স্বজনরা নিরূপায় হয়ে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে পুনরায় একই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়।
সকালে ডা. প্রফেসর দ্বীন মোহাম্মদ নিয়মিত পরিদর্শনে আসেন এবং কতর্ব্যরত চিকিৎসককে কিছু ঔষধের নাম বলে রোগীকে বিদায় করে দিতে বলে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে পরবর্তী দিন হাসপাতালে দেখা করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা।
কিন্তু রোগীর স্বজনরা ডাক্তারের ভাষা বুঝতে না পেরে পরের দিন নিউরো সায়েন্স মেডিকেল হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং রোগীকে ভর্তির জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক আহমেদ রিয়াজকে অনুরোধ জানান।
রোগীর স্বজনরা জানান, রোগীকে ভর্তির জন্য কোনো সরকারী উচ্চ পদস্থ আমলা বা এমপি/মন্ত্রীকে দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করতে বলেন। টেলিফোন করাতে অপরাগতা প্রকাশ করে রোগীর স্বজনরা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য অনুরোধ জানালে ডা. আহমেদ রিয়াজ রোগীর স্বজনদের ১০৫ নং কক্ষে যোগাযোগ করতে বলেন।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম পূর্বের ব্যবস্থাপত্রের সাথে কিছু ঔষধ যোগ করে রোগীকে নিয়ে বাসায় চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। তখনও রোগীর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং রোগীর স্বজনরা আর্তনাদ করেও কর্তব্যরত ডাক্তারের মন জয় করতে পারেননি।
মুমূর্ষ মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য তাঁর স্বজনরা তাৎক্ষণিক কোনো উপায় না পেয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
এ ব্যাপারে নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ডাক্তার দ্বীন মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। একই সাথে এই কথা উল্লেখ করেন যে, এরকম হাজার হাজার রোগী যায় আর আসে, অনেক মন্ত্রী-মিনিস্টারের আত্মীয-স্বজনরাও তার মধ্যে থাকে।
রোগীর স্বজনদেরকে যেহেতু স্যার (দ্বীন মোহাম্মদ) চেম্বারে দেখা করতে বলেছেন সেহেতু এখানে সমস্ত সীট খালি থাকলেও আমরা রোগীকে ভর্তি নিতে পারবো না বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি, গৃহ নির্মাণ, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মানীত করেছেন। মৃত্যুর পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ও স্মৃতি ফলক হিসাবে কবর পাকাকরণ করার ব্যবস্থা করেছেন সেখানে হীন মানসিকতার কিছু মানুষের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি কী নষ্ট হচ্ছে না? যারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এহেন হীন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন তারা কারা?
কেবি/এমবি





