দু'জন মানুষ যত দূরেই থাকুক, একে অন্যকে নিয়ে কী ভাবছে- কোনো মাধ্যম ছাড়াই তা জানতে চেয়েছে, তাকে 'টেলিপ্যাথি' বলে থাকি আমরা। এটা হচ্ছে এক ধরনের মানসিক যোগাযোগ।

সম্প্রতি প্রথমবারের মতো টেলিপ্যাথিতে সফল হলেন বিজ্ঞানীরা। 'টেলিপ্যাথি' সম্ভব হলে মানব সভ্যতায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লবী পরিবর্তন আনবে, সন্দেহ নেই। টেলিপ্যাথিতে সফলতা!

এমন একটা ইঙ্গিত মিলেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একদল বিজ্ঞানীর একটি গবেষণায়। চার হাজার মাইল দূরের ভারত ও ফ্রান্সে থাকা ব্যক্তির মধ্যে এই প্রথম সরাসরি ব্রেইন টু ব্রেইন যোগাযোগ স্থাপনে সফল হয়েছেন তারা।

গবেষকরা একজনের একটি বার্তা কথা বলা বা শব্দ টাইপ করা ছাড়াই অন্যজনের কাছে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।

হার্ভার্ড গবেষকদের এ চেষ্টায় প্রমাণ হলো, হাজার মাইল দূরে থাকলেও মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে সরাসরি তথ্য পাঠাতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব। টেলিপ্যাথি নিয়ে হাজার বছর ধরে মানুষ যে স্বপ্ন দেখে আসছে, এটা তারই এক ধরনের বাস্তবায়ন বলে মনে করছেন গবেষণার একজন পরিচালক পদার্থবিদ গুইলিও রাফিনি।

গবেষকরা মস্তিষ্কের সঙ্গে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে যোগাযোগ স্থাপন করেন। একজন একটা তারবিহীন ইন্টারনেটে যুক্ত ইলেকট্রোসেফালোগ্রাম বা ইইজি মাথায় পরে নিয়ে 'হ্যালো' বা 'হাই' জাতীয় কোনো ছোট্ট কথা ভাবেন।

তখন কম্পিউটার এ বার্তাটিকে ডিজিটাল বাইনারি কোডে, অর্থাৎ একগুচ্ছ ১ বা শূন্যে পরিণত করে। তার পর এ বার্তা ভারত থেকে ফ্রান্সে ই-মেইল করা হয় এবং ফ্রান্সের ব্যক্তির কাছে একটি রোবটের মাধ্যমে তা সরবরাহ করা হয়।

ওই ব্যক্তি মস্তিষ্ক উদ্দীপনার মাধ্যমে তার দৃষ্টিসীমার প্রান্তে শুধু কিছু আলোর ঝলক দেখতে পান। তবে তিনি কোনো শব্দ শুনতে বা দেখতে পান না। এসব সত্ত্বেও তিনি আলোর ঝলক থেকে সফলভাবে বার্তাটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

এ গবেষণার আরেক পরিচালক হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক আলভারো প্যাসকল-লিওন জানালেন, তারা এক দশক ধরেই এ টেলিপ্যাথির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের এই গবেষণার ফল প্লাস ওয়ান পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।

তবে এর সফলতা এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে বলেও জানাতে ভোলেননি বিজ্ঞানী রাফিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এ পদ্ধতিটি পরিপূর্ণ সফল হলে ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। খবর :টেলিগ্রাফ, এএফপি।

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ