বাগেরহাটের হিরামনি ও মো: জাকারিয়া দম্পতির প্যারাসাইটিক টুইন (অপূর্ণাঙ্গ জমজ) শিশুটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু সার্জারি বিভাগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জোড়া লাগানো জমজ শিশু মোহাম্মদ আলীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

বেলা ১টা দিকে শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো: রুহুল আমিন জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে সফলতার সাথে। শিশুটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এর মধ্যে কোনো ধরনের জীবানু সংক্রমণ না হলে শিশুটির আর কোনো সমস্যা হবে না।

অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। শিশুটির অস্ত্রোপচারে খুব বেশি রক্তক্ষরণ হয়নি এবং এখনো রক্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়েনি। পরে হয়তো প্রয়োজন হতে পারে। আমরা সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরাই অস্ত্রোপচারের কাজ করেছি। আমাদেরকে অনাসথেশিয়া বিভাগের চিকিৎসকরা সহায়তা করেছেন অজ্ঞান করার কাজে।

মোহাম্মদ আলী চলতি বছরের ১০ মার্চ এ হাসপাতালে শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়। শিশুটিকে এতোদিন পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের উপযোগি করে তোলা হয় এবং অবশেষে আজ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুরু থেকেই শিশুটির চিকিৎসার পুরো ব্যয়-ভার বিএসএমএমইউ বহন করছে।

প্রসঙ্গত: বাংলাদেশে অপূর্ণাঙ্গ জমজ শিশু নতুন নয়। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় পূর্ণ বয়স্ক এমন মানুষ দেখতে পাওয়া যায়। পেটের মাঝখান থেকে একটি পা বের হয়ে আছে অথবা পেট থেকে কিছু চুল বের হয়ে আছে। এরা শরীরের এসব অঙ্গ দেখিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত আছে।

এ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে বুকের সাথে লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়া আরো একটি জমজ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।

অধ্যাপক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, অবশ্য দুটি শিশুই আপাত: দৃষ্টিতে পুর্ণাঙ্গ মনে হচ্ছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে এরা কি কি অঙ্গ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে অথবা শুধুই বুকের সাথে লাগানো আছে কি-না।

এমআইএস