মনকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। মনকে অবহেলা করলে এর প্রভাব শরীর ও মনে উভয়তেই পড়ে। কারণ শরীরের ন্যায় মনেরও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রয়েছে। তবে তা অনেকে বুঝতে চান না। কারণ মনের সে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেখা যায়না। তা অনুভব করতে হয়।

জাতিসংঘ ঘোষিত আর্ন্তজাতিক যুবদিবস উপলক্ষ্যে “যুব মানসিক স্বাস্থ্য: মানসিক স্বাস্থ্যে মনোযোগী হোন”শীর্ষক এক সেমিনারেএমনি মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ। সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা:মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চাইল্ড এডলোসেন্ট এন্ড ফ্যামি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান খান।

সেমিনারে অধ্যাপক ডা. মারুফ আফজাল বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক কম। আমাদের আশপাশে অনেক মানুষের মধ্যেই মাসনিক সমস্যা রয়েছে তবে তা অনুভব করতে চান না।

মানসিক বাড়ন্তের চেয়ে বাস্তবতার চিত্র পরিবর্তন এখন দ্রুত হচ্ছে। যে কারণে মানসিক সমস্যার তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশে যুবকদের মধ্যে মানসিক সমস্যা বেশি। ভার্চুয়াল জগতের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি,অল্প বয়সে বিবাহ প্রেমঘটিত হতাশা, আর পারিবারিক হতাশার কারণে মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একারণে যুব সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন,মানসিকভাবে অসুস্থ শতকরা মাত্র ২৫ জনের চিকিৎসা আমরা দিতে পারছি। এক্ষেত্রে মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রেডিওলজী এন্ড ইমেজিং বিভাগের সাইকো থেরাপি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, মন থেকে মানসিক শব্দের উৎপত্তি। কিন্তু আমরা মানসিক শব্দটিকে নেগেটিভলি দেখি। শরীরের মতো মনেরও রোগ আছে। শরীরের কোনো অঙ্গ বিকল বা অসুস্থ হলে তা সারা শরীরে যেমন প্রভাব ফেলে তেমনী দীর্ঘদিনের বিষাদ হতাশার কারণে মনেরও অঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই এর চিকিৎসাও জরুরি।

সাইকো থেরাপি, সাইকিয়াট্রিক সোসাল ওয়ার্কার এন্ড ক্লিনিকেল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহ আলম বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক  নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে দিনদিন মানসিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এখন মিডিয়া ভায়োলেন্স হচ্ছে। কার্টুনের মধ্যেও ভায়োলেন্স আর সেক্সচুয়াল বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যা যুব সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অধ্যাপক এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান, যুব ও তরুনদের মানসিক বিকাশের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। সে পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে না পারলে বড় ধরণের মানসিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে সমাজে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, স্টিগমা এর কারণে অনেকে মানসিক সমস্যা ভোগার পড়েও তা প্রকাশ করতে পারে না।

সাইকিয়াট্রি একটি রোগ কিন্তু অনেকেই তা জানেন না। বাংলাদেশে অনেক শিশু বিকাশ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মানসিক বিকাশে কাউন্সেলিং চলছে। কিন্তু প্রচার আর প্রচারণার কারণে সব মানসিক বিপর্যস্ত মানুষ সেবা পাচ্ছে না।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহকারি অধ্যাপক ডা. ফাহমিদুর রহমান, ডা. আবুল কাশেম খালেকুজ্জামান, ডা. নীলুপার আক্তার জাহান, প্রফেসার ডা. তাজুল ইসলাম।

ঢাকা, জেইউ, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম// এসএইচ