সংক্রমণ প্রতিরোধে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ অ্যান্টিবায়েটিক এখন বুমেরাং হয়ে দেখা দিচ্ছে মানব দেহে। অর্থাৎ অ্যান্টিবায়েটিকের ক্রমাগত ব্যবহারের কারণে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলো আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হচ্ছে।

ভাইরাসগুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করার জন্য অভিযোজিত হচ্ছে। ফলে খুব শিগগিরই মানব দেহে অকার্যকর হয়ে পড়বে সব ধরনের অ্যান্টিবায়েটিক।

২০৫০ সালের মধ্যে এসব ওষুধের বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া না হলে শুধু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে বিশ্বে প্রতিবছর অতিরিক্ত এক কোটি মানুষের মৃত্যু হবে, যা ক্যানসারে মৃত্যুর হারের চেয়ে বেশি। বর্তমানে এ সংখ্যা ৭ লাখ। আর এর ফলে পৃথিবীর আর্থিক ক্ষতি হবে এক লাখ কোটি ডলার।

ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও’নিলকে অণুজীবঘটিত প্রতিরোধক বিষয়ে পর্যালোচনার দায়িত্ব দেন।
গবেষণা বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা অ্যান্ড ইউরোপ ও পেশাদারি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, ম্যালেরিয়া ও যক্ষা সংক্রমণ রোধে যেসব অ্যান্টিবায়েটিক ব্যবহার করা হয় সেগুলো মানবদেহে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

প্রতিবছর ইউরোপ ও আমেরিকায় অ্যান্টিবায়েটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে ৫০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বাড়বে ১০ গুণ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি ও বিশ্ববাণিজ্যে সেগুলোর গুরুত্ব বিশ্লেষক হিসেবে সুপরিচিত ও'নিল জানান, ব্রিকসভুক্ত অর্থাৎ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন এবং মিন্টভুক্ত দেশ-মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুর্কিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

২০৫০ সালের মধ্যে নাইজেরিয়ায় প্রতি চার জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হবে অ্যান্টিবায়েটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে, যেখানে ভারতে প্রতিবছর মারা যাবে অতিরিক্ত ২০ লাখ মানুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর হাড়ের জোড়া প্রতিস্থাপন, সিজার, কেমোথেরাপি ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার সময় জীবাণু প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। বিশ্ব জাতীয় উৎপাদনে সিজারের অ্যান্টিবায়োটিকের ২ শতাংশ, জোড়া প্রতিস্থাপনের শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ, ক্যানসার ওষুধের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ অংশগ্রহণ রয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া এ প্রক্রিয়াগুলো অনেক ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভবও হয়ে পড়ে।

এ সঙ্কটপূর্ণ অবস্থা এড়াতে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন ও'নিল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ওষুধের ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন।
• দ্রুত নতুন ওষুধের উন্নয়ন।
• মানুষ ও পশুর দেহে ওষুধ ব্যবহার বিষয়ে আর্ন্তজাতিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।

ইআর