শরীর ফিট রাখতে ব্রিস্ক ওয়াকিং (দ্রুত হাঁটা) এর জুড়ি নেই। এর জন্য আপনার ব্যস্ত জীবন থেকে মাত্র আধা ঘণ্টা সময় বার করলেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যাকে মুঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
কর্মব্যস্ত জীবনে ফিটনেসের দিকে নজর রাখার সময় নেই। অথচ শরীর ফিট না থাকলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, পেশাদার জীবনেও পড়তে বাধ্য৷ এই কথাটা মাথায় আছে তো? রোজ জিমে যাওয়ার সময় নেই যখন, তখন আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ব্রিস্ক ওয়াকিং৷ সকালে বা বিকেলে সুবিধামতো আধা ঘণ্টা সময় বের করে নিলেই হলো৷
ব্রিস্ক ওয়াকিং কী?
খুব সংক্ষেপে আর সহজ কথায় বলতে গেলে ব্রিস্ক ওয়াকিং হলো জোরে হাঁটা৷ খুব আস্তে হাঁটলেও চলবে না৷ আবার জোরে দৌড়ানোও নয়৷ এর মাঝামাঝি গতিতে হাঁটা৷ প্রত্যেকেরই হাঁটার একটা নির্দিষ্ট গতি আছে৷ ব্রিস্ক ওয়াকিং-এর আগে আপনাকে একবার বুঝে নিতে হবে, সর্বোচ্চ কোন গতিতে হাঁটলে, আপনার শরীরে কোন অস্বস্তি তৈরি হবে না৷তবে হাঁটার গতি ঘণ্টায় তিন মাইল না হলে, তা মোটেই ব্রিস্ক ওয়াকিং নয়৷ হাঁটার সময় হার্টের স্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় তাড়াতাড়ি হবে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসও ঘন ঘন পড়বে৷ সঠিক ব্রিস্ক ওয়াকিং করলে আপনার ঘাম হবে এবং আপনার এমন একটা অনুভূতি হবে, যে আপনি যেন কোন এক্সারসাইজ করছেন৷ ব্রিস্ক ওয়াকিং-এর জন্য বেছে নিতে পারেন বাড়ির কাছাকাছি পার্ক, ফাঁকা রাস্তা৷ এমনকি বাড়ির ছাদ যদি বেশ বড়সড় হয়, তাহলে সেখানেও হাঁটতে পারেন৷ মাথায় রাখুন হাঁটার সময় আপনার পোশাক ও জুতোজোড়াটা যেন জোরে হাঁটার জন্য উপযুক্ত ও আরামদায়ক হয়৷ হাতের কাছে সবসময় এক বোতল জল রাখার কথা অবশ্যই ভুলবেন না৷
ব্রিস্ক ওয়াকিং এর নিয়ম
সব সময় সোজা হয়ে হাঁটবেন৷ হাঁটার সময় মাথা বা কাঁধ যেন কোনও মতেই মাটির দিকে ঝুঁকে না পড়ে৷ কাঁধ যতটা পারেন রিল্যাক্সড রাখবেন৷ হাঁটার সময় সামনের দিকে সোজা তাকিয়ে হাঁটতে হবে৷ হাত দুটো কনুই থেকে নব্বই ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে রাখুন৷ হাঁটার সময় হাত দুটি যেন কোনও মতেই একে অপরকে ক্রস না করে৷ ব্রিস্ক ওয়াকিং-এর সময় হাতের মাসলগুলিকেও রিল্যাক্সড রাখবেন৷ ব্রিস্ক ওয়াকিং-এর সময় সবসময় মাটিতে পা ফেলে হাঁটবেন৷ অল্প অল্প স্টেপ ফেলে হাঁটবেন৷ হাঁটার গতি একই রিদমে রাখলে ভালো ফল পাবেন৷ হঠাৎ করে গতি বাড়িয়ে দিলেন, বা কমিয়ে দিলেন, এটা যেন কোনও মতে না হয়৷
ব্রিস্ক ওয়াকিং-এর সুফল
ব্রিস্ক ওয়াকিং কি এবং তার নিয়ম কানুন তো জানা হলো। এবার এক ঝলকে এর উপকারগুলি জেনে নিন৷ হার্ট ভালো রাখতে- ব্রিস্ক ওয়াকিং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে, যার ফলে, কার্ডিও ভাস্কুলার রোগের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে৷ এর ফলে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের পেশিগুলো শক্তিশালী হবে৷ শক্তিশালী হৃৎপিণ্ড অনেক বেশি ভালোভাবে শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সরবরাহ করার ক্ষমতা রাখে৷ ওজন কমাতে- প্রতিদিন নিয়ম মেনে আধা ঘণ্টা থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট ব্রিস্ক ওয়াকিং করলেই, ২০০ ক্যালরি ক্ষয় হয়৷ তার মানেই শরীরের মেদ কমে আপনি হয়ে উঠবেন একেবারে স্লিম, ট্রিম, ফিট৷ এর সঙ্গে উপযুক্ত ডায়েট মেনে চললে তো কথাই নেই৷ ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে- যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য ব্রিস্ক ওয়াকিং খুবই উপকারী৷ এর ফলে পেশিগুলি ভালোভাবে শরীরের গ্লুকোজ ও ইনসুলিনকে ব্যবহার করে ব্লাড সুগার লেভেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে৷ উচ্চরক্তচাপে যারা ভোগেন, তারাও ব্রিস্ক ওয়াকিং করলে উপকার পাবেন৷ কারণ এতে আপনার হার্ট ও কিডনি দুটিই ভালো অবস্থায় থাকবে৷ ক্যান্সার প্রতিরোধে- নিয়মিত ব্রিস্ক ওয়াকিংএর অভ্যাস থাকলে ক্যান্সার শরীরে বাসা বাঁধতে পারবেনা৷ তাছাড়া যদি কারোর কেমো থেরাপি চলে, তাহলেও এই অভ্যাস থাকলে কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে৷ মিসক্যারেজ এড়াতে- প্রেগনেন্সির সময় ব্রিস্ক ওয়াকিংএর অভ্যাস থাকলে সহজেই মিসক্যারেজ ও অন্যান্য কমপ্লিকেশন এড়ানো সম্ভব৷ এছাড়াও নিয়মিত ব্রিস্ক ওয়াকিং-এর অভ্যাস শরীর ও মন চনমনে রাখে, বয়সজনিত সমস্যাকে বহুদিন দূরে রাখে এবং মস্তিষ্ক সচল রাখে। সূত্র: সংবাদ সংস্থা
[b]ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]
স্বাস্থ্য
ফিট থাকার জন্য ব্রিস্ক ওয়াকিং
শরীর ফিট রাখতে ব্রিস্ক ওয়াকিং (দ্রুত হাঁটা) এর জুড়ি নেই। এর জন্য আপনার ব্যস্ত জীবন থেকে মাত্র আধা ঘণ্টা সময় বার করলেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যাকে মুঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।





