ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রোগীদের চিকিৎসাসেবা তরান্বিত করতে দুটি কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। একটি কমিটি চিকিৎসা সেবা দিবে। অন্যটি রোগীদের সার্বক্ষণিক দেখভাল করবে।
এছাড়াও বার্ন ইউনিটে দুটি ওয়ার্ডে হট লাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। রোগীদের প্রয়োজনে ওই ফোনে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন বার্ণ ইউনিটের ডাক্তাররা।
হরতাল ও অবরোধের আগুনে দগ্ধ রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ উদ্যেগ নিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কতৃপক্ষ।
অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বলেন, চলমান হরতাল ও অবরোধে বার্ণ ইউনিটে ৮৬জন রোগী এসেছেন। এরমধ্যে ৫জন মারা গেছেন। ৫০জন ভর্তি রয়েছেন। বর্হিবিভাগের মাধ্যমে ১৯জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। ভর্তির পর চিকিৎসাসেবায় সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২জন।
রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা তরান্বিত করতে দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটি চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনদের নিয়ে করা হয়েছে। তারা সর্বক্ষন ভর্তি থাকা এই দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবেন। তারা প্রতি এক ঘন্টা পরপর রোগীদের পর্যবেক্ষণ করবেন।
অন্যদিকে আরেকটি মাল্টি ডিসেপ্লিনারী কমিটি করা হয়েছে। সেখানে জেনারেল সার্জন, অর্থবেটিক সার্জন, নিউরো সার্জন, পেডিয়াট্রিক সার্জন ও রেসপারেটি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা। দগ্ধ রোগীদের চোখ, নাক-কান, গলাসহ বিভিন্ন অসুবিধায় তারা তাদের চিকিৎসা সেবা দিবেন।
রোগীদের কাছে ভীড় না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীদের দেখতে আসলে যদি ইনফেকশন হয়। আর এতে রোগীর সমস্যা বাড়তে পারে।
ভবনের নিচে ও উপরে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দ্রুত দিতে দুটি হটলাইন ফোন নম্বর দেওয়া আছে। এর মাধ্যমে তারা সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করবে বলেও জানান তারা।
জনসচেতনতার জন্য তিনি বলেন, যেখানে কেউ দগ্ধ হবে সেখানেই আধা ঘন্টা ধরে পানি ঢালা এবং গাড়িতে দরজা ও জানালা খুলে রাখা যেন গাড়িতে আগুন লাগলে যাত্রীরা বের হতে পারে।
অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বলেন, এ পর্যন্ত ভর্তি ৫০জনের মধ্যে নিবিড় পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন ৪জন। বাকী ৪৬জনকে হাইডিফেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৭জনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গত ২৪জানুয়ারী যাত্রাবাড়ীতে বাসে আগুনের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ৯জন আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আইসিইউ-তে, বাকী ৮জন এইচডিইউ ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
এ ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে অনেকের মুখ ফুলে গেছে, চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে।
এআই/এএইচ





