ক্যানসারের জন্য দায়ী কয়েকটি জিনের মধ্যে মিক (এমওয়াইসি) একটি৷ প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্যানসারই হয়ে থাকে এই জিনের কারণে৷ এবার মিককে নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা৷
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অনিন্দ্য বাগচীর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীর একটি গবেষণা সম্প্রতি ‘নেচার' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে৷
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বাগচীর সঙ্গে৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, গবেষণায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন ওষুধ উদ্ভাবনের কাজ শুরু হবে৷ তারপর সেটা বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে রোগীদের কাছে যেতে সাত-আট বছর লাগতে পারে৷
বাগচী বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে মিক জিন আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা৷ এজন্য তাঁরা নোবেল পুরস্কারও পেয়েছেন৷ ‘‘মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় এই জিনের বিকৃতি ঘটলে তখনই ক্যানসার হয়,'' বলে জানান তিনি৷
সারা বিশ্বের ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকদিন থেকেই মিক নিয়ন্ত্রণের উপায় বের করার চেষ্টা করছে৷ কিন্তু দুটো কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান বাগচী৷
‘আপনার ক্যানসার ধরা পড়েছে’ এমন দুঃসংবাদ শোনার জন্য কেউ কখনো অপেক্ষা করে না৷ তবে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে হয়তো ক্যানসার রোগীর সংখ্যা অর্ধেক হতে পারে৷ ক্যানসার রোগীর প্রতি পাঁচজনের একজনই হচ্ছে ধূমপায়ী৷ বিষাক্ত তামাকের ধোঁয়া যে শুধু ফুসফুসের ক্যানসারের জন্যই দায়ী তা নয়, ধূমপান অন্যান্য ক্যানসারের হওয়ারও একটি কারণ৷ তবে ধূমপান ক্যানসার হওয়ার একমাত্র কারণ নয়৷
তিনি বলেন, ‘‘এক, মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় হওয়ায় মিককে সরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়৷ আর দুই, মিকের কোনো ‘পকেট' নাই, যেখানে আটকে গিয়ে কোনো ওষুধ তার কার্যকারিতা দেখাতে পারে।"
এই পরিস্থিতিতে বাগচীর দল যেটা করেছেন সেটা হচ্ছে তাঁরা মিকের একটা ‘রেগুলেটর' বা নিয়ন্ত্রক বের করেছেন৷ ‘পিভিটিওয়ান' নামের নন-কোডিং আরএনএ-ই হলো সেই রেগুলেটর৷ ‘‘আমরা দেখেছি যে, পিভিটিওয়ানের কারণে মিক জিন বিকৃতি রূপ লাভ করে৷ আবার যদি পিভিটিওয়ানকে সরিয়ে দেয়া যায় তাহলে সেটা আগের অবস্থায় ফিরে আসে৷''
অর্থাৎ পিভিটিওয়ানকে লক্ষ্য করে যদি কোনো ওষুধ বানানো যায় তাহলে তার মাধ্যমে মিককেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে৷ বাগচীর দল এখন সে লক্ষ্যেই কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে
ঢাকা, ২০ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





