শীতকালে জন্মগ্রহণকারী শিশু বিশেষ করে যেসব ছেলে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে জন্মায়, তাদের মধ্যে বাঁহাতি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে এ বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

দৈনন্দিন নানা কাজের জন্য ডান হাতের প্রয়োজন হয়। তবে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশ পর্যন্ত ভাগ বাঁহাতি হয়ে থাকে। বাকি ৯০ ভাগ ডানহাতি হয়ে থাকে। বাঁহাতিরা বাম হাতেই প্রধান কাজগুলো করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ইউনিভার্সিটি অফ ভিয়েনার তিনজন গবেষক উলরিচ ট্র্যান, স্টেফ্যান স্টিগার ও মার্টিন ভোরাসেক এতে অংশ নেন। তারা অস্ট্রিয়া ও জার্মানির প্রায় ১৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এ সমীক্ষাটি চালান।

এ গবেষণায় সাড়ে সাত ভাগ নারী ও আট দশমিক আট ভাগ পুরুষকে বাঁহাতি হিসেবে পাওয়া যায়।

গবেষণাপত্রটির মূল লেখক উলরিচ ট্র্যান বলেন, ‘আমরা নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণকারী মানুষদের সংখ্যাধিক্য দেখে অবাক হয়েছি। এ সময় বাঁহাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১০ দশমিক ৫ ভাগে দাঁড়ায়।’

এর কারণ হিসেবে দিন রাতের দৈর্ঘ্য প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন ট্র্যান। তিনি বলেন, ‘ধারণা করা যায়, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকলেও অন্ধকার হয়তো এজন্য প্রভাব বিস্তার করে না। কিন্তু আমরা মনে করি তার অর্ধবছর আগে অর্থাৎ মে মাস থেকে জুলাই মাসের উজ্জ্বলতা এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।’

১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মস্তিষ্কবিশারদ নরম্যান গেশ্চউইন্ড ও অ্যালবার্ট গ্যালাবুর্ডা অভিমত দিয়েছিলেন যে, টেস্টোস্টেরন ভ্রুনের মস্তিষ্কের বামপাশের অংশের খাদ্যাভাব দেরি করার জন্য কাজ করে। আর মস্তিষ্কের বাম অংশই ডানহাতিদের প্রধান কর্মক্ষম অংশ।

এ গবেষণার ফলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, দিনের আলোর তারতম্যের ফলে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোনের যে তারতম্য হয়, তার ফলশ্রুতিতেই মানুষ বাঁহাতি বা ডান হাতি হতে পারে।

ঢাকা, ০৫ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস