চিকিৎসকরা কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সেবা দিচ্ছেন কিনা তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সচিবালয় থেকে প্রতিদিন মনিটরিং করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ লক্ষ্যে সব প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসক উপস্থিতি মনিটরিং করতে সিভিল সার্জনদেরকে আরো সক্রিয় ও কার্যকর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক না থাকলে তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলার সিভিল সার্জনদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের উপস্থিতির উপর নজরদারি বাড়াতে মন্ত্রণালয়,অধিদপ্তর ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন মোহাম্মদ নাসিম।

চিকিৎসকদের কর্মস্থলে চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করণীয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত  আজকের  এক সভায় মন্ত্রী এ নির্দেশনা প্রদান করেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন,হাসপাতালে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া যায় না,এমন অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

কর্মস্থলে চিকিৎকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার একটি ইউনিয়ন সাবসেন্টারে কর্মরত ডাক্তার মাহবুব। তবে তার মতে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকলে শুধু ডাক্তার  উপস্থিত থাকলেই রোগীর সেবা দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, হাসপাতালের কাছে ডাক্তারের আবাসন ও যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করতে না পারলে কর্মস্থলে চিকিৎকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলায় কর্মরত মহিলা চিকিৎসক ডাক্তার মৌসুমী জানান, এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় বা চিকিৎসা সম্পর্কিত  কোন সংগঠনের লোকজনকে দায়িত্ব দিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

তার মতে, নিজের কর্মস্থলের অব্যবস্থাপনা ও অনিরাপত্তার কথা  উল্লেখ করে ডাক্তর মৌসুমি জানান, রোগীর সেবা দিতে  ডাক্তারের কী কী সমস্যা রয়েছে সেটাও দেখা দরকার।

এদিকে, সংসদ সদস্যদেরকে নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে  হাসপাতালে প্রতিমাসে একবার সভা করে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

কর্মস্থলে  চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ জানানোর জন্য হাসপাতালে স্থাপিত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে এবং অধিদপ্তর থেকে দ্রুত অভিযোগ নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজকের সভায় অবহিত করেছেন।

জেএইচ