এন্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরণের ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শপত্র ছাড়া বিক্রি করা বেআইনি হলেও, রাজধানীসহ দেশের কোথাও মানা হচ্ছে না সেটা। ফার্মেসিগুলোতে চাওয়া মাত্রই যে কোন ওষুধ পাওয়া যায় এখন। ফলে ভুল ওষুধ খেয়ে যেমন প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে, তেমনি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে অসংখ্য মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে জনসচেতনতার অভাবের কথা।
রাজধানীর মহাখালীর আদর্শনগর এলাকার একটি ফার্মেসি। চাওয়া মাত্র যে কোন ওষুধই পাওয়া যায় এখানে। শুধু তাই নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে রোগী ওষুধ কিনতে এলে বিক্রেতা নিজেই বনে যান চিকিৎসক। শুধু এখানে নয়, পুরো রাজধানীর চিত্র অনেকটা এরকমই। বিক্রেতার বলছেন, প্রেসক্রিপশনের জন্য বসে থাকলে বিক্রি কম হয় তাই অধিক মুনাফার জন্যই তারা এভাবে বিক্রি করছেন। তবে এর জন্য তাদের কেউ কিছু বলে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের এক জরিপে দেখা যায়, সারা দেশে বছরে যে ওষুধ বিক্রি হয় তার মাত্র ১৩ ভাগ ওষুধ বিক্রি হয় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, প্রচুর মানুষ হয়তো এভাবে মারা যাচ্ছে কিন্তু এর কোনো প্রতিবেদন হয় না। ওষুধ প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে কোনো তাগাদা দেওয়া হয় না।
নিজেদের নজরদারি রয়েছে দাবি করে ওষুধ প্রশাসন বলছে, জনসচেতনতা সৃষ্টি না হলে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, সারাদেশে যখন আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ফার্মেসিগুলো পরিদর্শনে যান, তখন তারা এগুলো বলে থাকেন। জনগণকে আগে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
ওষুধ নীতিমালা অনুযায়ী কিছু ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বিক্রি করা যায় তবে তার তালিকা টানানো থাকতে হবে প্রত্যেকটি ফার্মেসিতে। সে তালিকাও দেখা গেল না ফার্মেসিগুলোতে। (সূত্র সময় টিভি)
এমবিএইচ





