আর মাত্র একদিন পরেই আসছে কোরবানির ঈদ। কোরবানির ঈদের সারাদিন ধরেই সবার ঘরে চলে মাংশ রান্না।
তাই রান্নাঘরের ব্যস্ততা একটু বেশি থাকে। আসুন আগে থেকেই জেনে নিই কি কি উপায়ে আপনি স্বাদের খাবারটি তৈরি করবেন।
শিক কাবাব
উপকরণ: গরুর মাংস(আন্ডার কাট্ট চর্বি ছাড়া)১ কেজি, আদার রস ৪ টেবিল চামচ, রসুন পেস্ট ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, টকদই আধা কাপ, হলুদ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, শাজিরা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, মিক্স হার্ব ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, অলিভ অয়েল আধা কাপ, নাশপতি ২টি+মধু আধা কাপ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: মিক্স হার্ব, লেবুর রস, অলিভ অয়েল, নাশপতি ছাড়া বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে ৭–৮ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর শিকে গেঁথে নিতে হবে। বাকি উপকরণ একসঙ্গে মেখে সম্পূর্ণ একটা মিশ্রণ করতে হবে।
এই মিশ্রণ ব্রাশ করে শিকের মাংসে দিতে হবে। কাঠ কয়লার আগুন করে শিককাবাব ছেঁকতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে হালকা পোড়া ভাব এলে নামিয়ে মিশ্রণটা ওপরে ঢেলে দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
বিফ কলিজা ভুনা
যা লাগবে : বিফ কলিজা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ১ কাপ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, এলাচ ২টি, দারুচিনি ১ টুকরা, তেজপাতা ২টি, লবণ স্বাদ অনুযায়ী ও তেল পরিমাণমতো।
যেভাবে করবেন : প্রথমে কলিজা গরম পানিতে অল্প সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিন। অবশেষে গরম অবস্থায় কলিজার পাতলা পর্দাগুলো হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিন।
অবশেষে ছোট ছোট টুকরা করুন। ভালো করে আবার ধুয়ে নিন। তেল গরম করুন। এতে পেঁয়াজ, গরম মশলা এবং তেজপাতা দিয়ে ভাজুন।
অন্য সব বাটা মশলা এবং স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে মশলা ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা কষানো হলে এতে কলিজা দিয়ে আবার ভুনা ভুনা করে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন ১০ মিনিট। এরপর ধনেপাতা কুচি, কাঁচা মরিচ ও জিরা গুঁড়া দিয়ে ভুনা ভুনা করে নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন বিফ কলিজা ভুনা।
গরুর পায়া
উপকরণ: গরুর পায়া ১ কেজি, কুরুলির মাংস ১ কেজি, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রঁসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, এলাচি ও দারুচিনি ৮-৯টা করে, লবঙ্গ ১০টি, তেজপাতা ২টি, পেঁয়াজ বেরেস্তা ২ কাপ।
প্রণালি: সব মসলা, মাংস ও পায়া একসঙ্গে মেখে ১০ লিটার পানিতে বলক তুলে সেদ্ধ করুন। খুব কম আঁচে চুলায় ১০ ঘণ্টা রাখুন। রান্না হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে সঙ্গে সঙ্গে বেরেস্তা, কাঁচা মরিচের কুচি, আদা কুচি, ধনে ও পুদিনাপাতার কুচি ও লেবুর রস দিয়ে পরিবেশন করুন।
রোস্ট টাংরোস্ট টাং
সাধারণত গরুর জিহ্বা মাংসের সঙ্গেই ভুনা করে খাওয়া হয়। তবে জিহ্বা দিয়েই রান্না করতে পারেন ভিন্ন স্বাদের এক পদ।
উপকরণ: জিহ্বা দেড় কেজি, মাখন পৌনে এক কাপ, চিনি ২ টেবিল চামচ, এলাচি ৪ টি, দারুচিনি ২টি, তেজপাতা ২টি, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, টমেটো পেস্ট ২ টেবিল চামচ, লবণ প্রয়োজনমতো, পানি প্রয়োজনমতো, আলুবোখারা ৫টি, কাঁচা মরিচ ৫টি, গোলমরিচ মোটা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: জিহ্বা ভালোমতো পরিষ্কার করে নিন। লবণ, এলাচি, দারুচিনি ও তেজপাতা দিয়ে ৬ কাপ পানিতে দিয়ে প্রেশার কুকারে দুই ঘণ্টা সেদ্ধ করুন। পানিটা রেখে দিন।
নামিয়ে জিহ্বা ছিলে পাতলা চাক চাক করে কেটে একটু মাখন দিয়ে ভেজে নিন। এবার অন্য কড়াইয়ে বাকি মাখন গরম করে তাতে দুই টেবিল চামচ চিনি ক্যারামেল করে তাতে জিহ্বা সেদ্ধ করা এক কাপ পানি দিয়ে দিন।
এতে দুটি করে এলাচি ও দারুচিনি দিন। এবার আদা ও রসুন বাটা দিয়ে কষান। এবার টমেটো পেস্ট ও একুট পানি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এবার জিহ্বা ও আলুবোখারা দিয়ে এক কাপ পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।
১০ মিনিট পর কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢাকনার মুখটা একুট ফাঁক করে কিছুক্ষণ চুলায় রাখুন। লেবুর রস ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে নিন।
মগজ ভর্তা
উপকরণ: মগজ ১টি, কাঁচা মরিচের কুচি ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, ধনেপাতার কুচি পৌনে এক কাপ, সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ ও হলুদ প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: মগজ অল্প হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে চটকে নিন। পাত্রে পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে চটকে নিন। এবার মগজ মিশিয়ে ভালো করে মেখে পরিবেশন করুন।
এমএ/এসএইচ





