ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিসের লোক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নারায়ণ চন্দ্র দাসসহ চার জনের বিরুদ্ধে।

রাহাত সুলতানা নামে স্বাস্থ্য সহকারী পদের একজন চাকরি প্রার্থী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় এ নিয়ে কসবা থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন। যার নম্বর (১২৬০)।

জানা যায়, ১৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ জুলাই নিয়োগের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। ওই তালিকায় অভিযোগকারীদের কারো চাকরি না হওয়ায় পরদিন ২৭ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নারায়ণ চন্দ্র দাসের কাছে যায় অভিযোগকারীরা। এসময় সিভিল সার্জন তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন।

মামলার এজাহারে সুলতান বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী পদের ১২ প্রার্থীর কাছ থেকে ১২ মে তারিখে মোট ৩৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন সিভিল সার্জন নারায়ণ চন্দ্র দাস। বিল্লাল, অফিস সহকারী রাজিয়া সুলতানা ও নৈশ প্রহরী আতাউর রহমানের মাধ্যমে সিভিল সার্জন এ ঘুষ গ্রহণ করেন।

অপর চাকরি প্রার্থী কসবার মঈনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও চাকরি দেননি সিভিল সার্জন। আরো বেশি টাকা নিয়ে অন্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের টাকার কথাও স্বীকার করছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন, টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না। আর যারা অভিযোগ করেছেন তাদের কাউকে আমি চিনি না। তাছাড়া এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের কোনো ক্ষমতা নেই। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুধু ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে ৩০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা হয়েছে। মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া এজাহার দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যেহেতু সরকারী চাকরিজীবী তাই অভিযোগটি দুদকের এখতিয়ার। বিধায় বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে কুমিল্লার আঞ্চলিক দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নারায়ণ চন্দ্র দাস ছাড়াও অফিস সহকারী রাজিয়া সুলতানা, নৈশ প্রহরী আতাউর রহমান এবং কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার মো. বিল্লাল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

ঢাকা, ১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ